সহসা রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছে না ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট

1
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মেদের ছবি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মেদ: “বাংলাদেশ আর গণতন্ত্র হত্যাকারীদের হাতে জিম্মি থাকবে না।”

দেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সালাউদ্দিন আহম্মেদ এর ‘আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’ এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, এটি একটি নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে দেশের মানুষ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থেকেছে এ বাস্তবতা আজ আর বিতর্কের বিষয় নয়, বরং জাতির জন্য একটি গভীর ক্ষত।

টানা একাধিক নির্বাচনে ভোটারবিহীন কেন্দ্র, রাতের ভোট, প্রশাসনের প্রকাশ্য দলীয় ভূমিকা এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলে বাধা এসবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে দেশ-বিদেশে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভোটাধিকার যেখানে গণতন্ত্রের প্রাণ, সেখানে জনগণকে ভোট দিতে না দেওয়া মানেই গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে জনগণের কণ্ঠ স্তব্ধ করে রাখার দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না।

এর পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের মানুষের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের অভিযোগও ভয়াবহ। গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, গণগ্রেপ্তার, কারাগারে নির্যাতন এসব অভিযোগে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ জানিয়েছে। বিরোধী সমাবেশে বাধা, নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি সব মিলিয়ে রাজনীতিকে একটি ভয়ের মাঠে পরিণত করা হয়েছিল। এমন বাস্তবতায় কোনো দলের ‘স্বাভাবিক রাজনীতি’র দাবি নৈতিকভাবে টেকসই হতে পারে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তাই প্রতিশোধের ভাষা নয়; এটি জবাবদিহির প্রশ্ন। যারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করেছে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর দমন চালিয়েছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে তাদের আগে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিচার, তদন্ত ও সত্য উদ্ঘাটন ছাড়া রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ দিলে তা হবে গণতন্ত্রের সঙ্গে তামাশা।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষায়, সংস্কার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িক বা শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রাষ্ট্রের যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

গণতন্ত্র মানে সব দলের জন্য অবাধ সুযোগ নয়; গণতন্ত্র মানে দায়িত্বশীলতা, আইন মানা এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা। যে দল পনেরো বছর ধরে জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি এবং বিরোধী কণ্ঠকে দমন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করাই গণতন্ত্র রক্ষার পূর্বশর্ত। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় বাংলাদেশ আর গণতন্ত্র হত্যাকারীদের হাতে জিম্মি থাকবে না।

এখন সময় অতীতের অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দেওয়ার এবং রাজনীতিকে সহিংসতা ও দমনমুক্ত করার। সেই পথে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের স্বার্থেই অপরিহার্য।