প্রশাসনের আশকারায় বেপরোয়া রশিদ: এবার আকিল মেম্বারের ওপর সশস্ত্র হামলা

প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন! প্রশাসনের আশকারায়

1
নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
আলামিন নগর ল্যান্ডফিল সাইটের বিউটিফিকেশন কাজের উদ্বোধনকালে কঠোর বার্তা দেন নাসিক প্রশাসক।

বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে চলমান বিতর্কে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের পরোক্ষ আশকারা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিতর্কিত আব্দুর রশিদ মেম্বার। এরই ধারাবাহিকতায় রশিদ মেম্বারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এবার আকিল উদ্দিন মেম্বারের উপর প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় আকিল মেম্বার ফতুল্লা মডেল থানায় রশিদ মেম্বারসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউএনও’র রহস্যজনক আচরণ এবং রশিদ মেম্বারকে সমর্থন জানানোর চেষ্টা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ জন মেম্বার লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলার আসামি, তিনবার জেল খাটা রশিদ মেম্বারকে যেন পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া না হয়। এত স্পষ্ট অনাস্থা সত্ত্বেও, ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন হাইকোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবং ‘আইন অনুযায়ী তিনিই পাওনা’ বলে রশিদ মেম্বারকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছেন। এই আশকারা পেয়ে রশিদ মেম্বার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল সোমবার (১০ মার্চ) দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটে পূর্ব ইসদাইর ক্যামব্রিয়ান স্কুলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আকিল উদ্দিন মেম্বার (৪৬), পিংকি আক্তার (৩০) ও হাসনা ভানু (৫৮) ডিসি অফিসের কাজ শেষে উপজেলা যাওয়ার পথে রশিদ মেম্বারের নির্দেশে অজ্ঞাত ৪-৫ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পথরোধ করে।

আকিল মেম্বার তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, হামলাকারীরা রশিদ মেম্বারের পক্ষ হয়ে তাদের হুমকি দেয়, “রশিদ মেম্বারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে তোদেরকে হত্যা করিয়া ফেলিব।” এরপর আকিল মেম্বারকে এলোপাতাড়ি লাঠি সোডা, কাঠের ডাসা ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে মুখমণ্ডল, মাথা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও রক্ত জমাট জখম করা হয়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। আহত আকিল উদ্দিনকে খানপুরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং রশিদ মেম্বারকে সমর্থন জানানোর চেষ্টা তার কার্যালয়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। মেম্বার ও এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি লেনদেন নাই হয়ে থাকে, তাহলে একজন ২২ মামলার আসামিকে বসাতে ইউএনও’র এতো আগ্রহ কেন?” ইউএনও বারবার ‘আইনের কথা’ বললেও, হাইকোর্টের রায়ে রশিদকে সরাসরি পুনর্বহালের কোনো আদেশ নেই। এই পরিস্থিতিতে ইউএনও’র নীরবতা এবং তার অসাধু কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

এসব বিষয়ে জানতে পর পর দুদিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ করেন নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েস উদ্দিন।

রশিদ মেম্বারের সহিংস আচরণ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিতর্কিত ভূমিকা বক্তাবলীতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, ইউএনও’র আশকারায় রশিদ মেম্বারকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলে, তা বড় ধরনের সংঘর্ষ এবং ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তারা জেলা প্রশাসকের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ কামনা করে একজন যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বক্তাবলীতে শান্তি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।