বক্তাবলীতে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে দ্রুত বিকল্প চায় মেম্বাররা

রশিদে ক্ষুব্দ বিএনপি-জামায়ত ও স্থানীয় এমপি

3
বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের প্রতিবাদ।
দাগী আসামি রশিদকে রুখতে বক্তাবলী ইউপি সদস্যরা একাট্টা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত উপজেলা থেকে একজন প্রশাসক নিয়োগ অথবা ৯ মেম্বারের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার দাবি জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। তবে কোনোভাবেই ২২ মামলার আসামি ও ভয়ংকর অপরাধী আব্দুর রশিদ মেম্বারকে এই পদে মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

দাগী এই আসামিকে ঠেকাতে ইউপি মেম্বারদের পাশাপাশি এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীও। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে এনসিপি মনোনীত বিজয়ী সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “নৌকার চেয়ারম্যান এবং বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামিদের ব্যাপারে কোনো রকম দুর্বলতা নারায়ণগঞ্জের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। প্রশাসনকে অবশ্যই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মার্কায় নির্বাচন করা এবং ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনে মদদ দেওয়া চেয়ারম্যানদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

একই সঙ্গে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রশিদকে কোনোভাবেই তারা মেনে নেবেন না। পাশাপাশি, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও এই দাগী আসামিকে পুনরায় চেয়ারম্যানের চেয়ারে দেখতে চান না বলে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ইউপি সদস্যরা জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে উপজেলা থেকে নিয়োগকৃত একজন প্রশাসকের মাধ্যমে ইউনিয়নবাসী সুন্দরভাবে সেবা পাচ্ছিলেন। কিন্তু ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রশিদ জোরপূর্বক পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেয়ার দখল করার জন্য হাইকোর্ট থেকে একটি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে আসেন। এর ফলেই প্রশাসকের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মেম্বাররা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী রশিদ মেম্বার যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন স্বৈরাচারী কায়দায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পরিষদে বসে থাকতেন। নির্বাচিত মেম্বারদের কোনো কাজ না দিয়ে তিনি নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কাজ করাতেন। এমনকি একটি মসজিদের উন্নয়নের টাকাও আত্মসাৎ করেছেন।

শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে সহকর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মেম্বাররা। সংরক্ষিত নারী সদস্য হাসনা বানুকে হত্যা করে লাশ গুম করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন রশিদ। তার উপস্থিতিতেই পরিষদের ভেতরে ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বারকে দিয়ে ৬নং ওয়ার্ডের রাসেল মেম্বারকে মারধর করানো হয়।সর্বশেষ গত ১০ মার্চ দুপুরে ডিসি অফিসের নিচেই রশিদের সন্ত্রাসী বাহিনী ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আকিল উদ্দিনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে অন্য মেম্বাররা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং ফতুল্লা থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের ৯ জন সদস্য প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “জনগণের ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে আমাদের ৯ জনের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হোক, অথবা পুনরায় উপজেলা থেকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হোক।”

তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এত ভয়ংকর অপরাধ এবং সবার আপত্তির পরও যদি প্রশাসন রশিদ মেম্বারকে পুনরায় দায়িত্ব দেয়, তবে ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।