
যে ব্যক্তিকে এলাকাবাসী ‘অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও লুটেরা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাকেই আবার ক্ষমতার চেয়ারে বসাতে তৎপর একটি প্রভাবশালী মহল এমন অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা। চারটি হত্যা মামলা ও একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত রশিদ মেম্বারকে পুনরায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে রীতিমতো আন্দোলনে নেমেছে বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত ইউনুস সরকারের সময় ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে অন্য সদস্যদের কোণঠাসা করে রশিদ মেম্বার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দখল করেন। ক্ষমতায় বসেই তিনি স্বচ্ছতার বদলে দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। এই সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের একাধিক অভিযোগ এলাকায় আলোচিত হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত তিনি পলাতক গডফাদার শামীম ওসমান এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্যতা বজায় রাখেন। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলালে তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা সহ মোট ২২টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি পরপর দুইবার কারাগারে যান, এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকার সময়ও তাকে জেলে যেতে হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এই প্রেক্ষাপটে বক্তাবলী ইউনিয়নের বাকি ১১ জন ইউপি সদস্য একযোগে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তারা কোনোভাবেই রশিদ মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মানতে রাজি নন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জনসমর্থনহীন এই ব্যক্তি প্রশাসনের একটি অংশকে ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে আবারও চেয়ার দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
বক্তাবলীর সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, একাধিক হত্যা মামলা ও অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত একজন মানুষকে আবার ক্ষমতায় বসানো হলে ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। উন্নয়নের বদলে বাড়বে লুটপাট ও দখলদারিত্ব। তাই তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে —সব দিক বিবেচনা করে বিতর্কিত ও অযোগ্য কাউকে যেন কোনোভাবেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া না হয়।
স্থানীয় আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি জোর করে রশিদ মেম্বারকে ক্ষমতায় বসানো হয়, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। বক্তাবলীতে এখন একটাই দাবি জনস্বার্থবিরোধী, মতলববাজ ও বিতর্কিত ব্যক্তির পুনরাবির্ভাব ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।







