‘হাতেম ভাই আছেন বলেই নারায়ণগঞ্জে আছি, নাহলে অনেক আগেই গাজীপুর চলে যেতাম’

বলছেন নীট ব্যবসায়ীরা

2
মোহাম্মদ হাতেমের সমর্থনে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ।
বিকেএমইএ সভাপতির অপমানের প্রতিবাদে ফতুল্লায় ব্যবসায়ীদের তীব্র ক্ষোভ।

“মোহাম্মদ হাতেম আমাদের নেতা নন, তিনি আমাদের অভিভাবক। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর আস্থার কারণেই আমরা আজ নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করছি। তিনি না থাকলে আমরা অনেক আগেই আমাদের কারখানাগুলো গাজীপুরে সরিয়ে নিতাম।”

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এক ইফতার মাহফিলে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলায় এভাবেই নিজেদের ক্ষোভ ও আস্থার কথা জানান নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এমপিকে উদ্ধার করে।

নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার পোশাক কারখানার মালিকরা জানান, প্রতিকূল পরিবেশেও মোহাম্মদ হাতেমের দক্ষ নেতৃত্বের কারণে তারা নারায়ণগঞ্জে শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রেখেছেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা এখানে ব্যবসা করছি শুধুমাত্র হাতেম ভাইয়ের কারণে। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতিটি সমস্যা নিজের মনে করে সমাধান করেন। তাঁকে যখন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অপমান করা হয়, তখন আমাদের অস্তিত্বে আঘাত লাগে। এমন অপমান চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা উৎসাহ হারাবেন এবং অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে অন্য জেলায় চলে যেতে বাধ্য হবেন।”

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মোহাম্মদ হাতেম আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের নিট শিল্পের একজন প্রধান মুখপাত্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বিশ্বের বড় বড় ক্রেতাদের (বায়ার্স) কাছে তিনি বাংলাদেশের বিশ্বস্ত প্রতিনিধি। একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবসায়ী নেতাকে যদি রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা হয়, তবে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা যাবে। তারা মনে করবেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ অনিরাপদ। এর ফলে বড় বড় ক্রয়াদেশ (অর্ডার) বাতিল হতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরামের ওই অনুষ্ঠানে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ক্ষুব্ধ হন এবং এক মঞ্চে বসতে অস্বীকার করেন। বক্তব্যে তিনি হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে সন্মোধন করলে উপস্থিত শত শত ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠান বর্জন করে প্রতিবাদ শুরু করেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, মোহাম্মদ হাতেম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা। তাঁকে অপমান করা মানে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে ছোট করা।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) হাছিনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এমপিকে উদ্ধার করে চাষাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়। এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মহলে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, অর্থনীতির এই দুর্দিনে ব্যবসায়ীদের অভিভাবককে অসম্মান করা দেশের অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর।