অসাধু সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ক্যাবের র‍্যালি, ৭ দফা দাবি পেশ

2
নারায়ণগঞ্জে ভোক্তা অধিকার আদায়ে ক্যাবের র‍্যালি ও মানববন্ধন।
বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে ক্যাব আয়োজিত প্রতিবাদী র‍্যালি।

বিশ্ব ভোক্তা-অধিকার দিবস উপলক্ষে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে র‍্যালি ও প্রতিবাদ সভা করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে শহরের চাষাড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ক্যাব নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

ক্যাব নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ এস এম এনামুল হক প্রিন্স, কার্যকরী সদস্য এস এম বিজয়, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি ডা. গাজী খায়রুজ্জামান, সহ-সভাপতি ডা. মো. তারিকুল ইসলাম, সদস্য জহিরুল ইসলাম মিন্টু, আল মামুন প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দেশে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় আইন রয়েছে এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি করছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই তদারকি আরও জোরদার করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, ন্যায্যমূল্য প্রতিষ্ঠা এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থে চলমান সংকটগুলোর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভোক্তাবান্ধব বাজারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকার, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

ক্যাবের উত্থাপিত ৭ দফা দাবি:
১. মানহীন, ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ পণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. দ্রব্যমূল্যের অযৌক্তিক বৃদ্ধি, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. পণ্যের সঠিক মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. পণ্যের মোড়কে (লেবেলিং ও প্যাকেজিং) বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া বিজ্ঞাপন ও প্রতারণামূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।
৫. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআই-এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের বাজার তদারকি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে হবে।
৬. ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-কে অধিকতর কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে দ্রুত সংশোধন করতে হবে।
৭. অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।