এমপি আল আমিন ও পরাজীত কাসেমীর কথার লড়াই

জমে উঠছে ফতুল্লার রাজনীতি

1
আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ফতুল্লা
আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ফতুল্লা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোট শেষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এলাকার উত্তেজনা কমার বদলে আরও বাড়ছে। বিজয়ী সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং পরাজিত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর মধ্যে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ‘কথার লড়াই’। দুই নেতার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ উত্তপ্ত।

লড়াইয়ের সূত্রপাত হয় মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর একটি বক্তব্য থেকে। তিনি তার সমর্থকদের সামনে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গত ৫৪ বছরে ফতুল্লায় যে কাজ হয়নি, আমরা এই আব্দুল্লাহ আল আমিনকে দিয়েই সেই কাজ করিয়ে নেব। আর তিনি যদি আঁকাবাঁকা পথে চলেন, তবে তাকে ‘সিধা’ করার কারিগরও আমরা। তাকে সিধা করে ছাড়ব।” কাসেমীর এই ‘সিধা করার’ মন্তব্য এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

কাসেমীর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে দেরি করেননি নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জামায়াতের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরাসরি কাসেমীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনার আশেপাশে সব চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী আর নৌকার বিতর্কিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে ঘোরেন, আর আমাদের সিধা করার ভয় দেখান? মনে রাখবেন, তেঁতুল গাছ লাগিয়ে খেজুর আশা করে লাভ নেই।”

আল আমিন আরও হুশিয়ারি দেন যে, তিনি জালিমদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করে আজ এই অবস্থানে এসেছেন। কেউ যদি নতুন করে এলাকায় সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজি করতে চায়, তবে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমি অপরাধীদের প্রশ্রয় দেব না, সেটা যে দলেরই হোক।”

নির্বাচন পরবর্তী এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণে ফতুল্লার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে কাসেমী শিবির সমাজ ‘পরিশুদ্ধ’ করার নামে আল আমিনের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আল আমিন সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়ার নামে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন।

ফতুল্লার সাধারণ ভোটাররা এখন দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধের শেষ কোথায়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন। সবার মনে একটাই প্রশ্ন-এই কথার লড়াই কি শেষ পর্যন্ত রাজপথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেবে?