
নির্বাচনের আগে যারা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেছেন, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন-সেই জামায়াত নেতারা এখন কোথায়? ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ শেষ হতে না হতেই নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেকটা নীরর অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। ভোটের আগে মাঠ গরম করলেও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের তীব্র যানজট, হকার সমস্যা আর ফুটপাত দখলের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সংকটে দলটির কোনো ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার (নারায়ণগঞ্জ-০৪ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী) এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ (নারায়ণগঞ্জ-০৫ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী) সহ অন্যান্য নেতারা অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। দলের সিদ্ধান্তে তারা নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও বাকি ৩টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-০৩ আসনে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এই বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ বা জনসমর্থনকে কাজে লাগিয়ে জনসমস্যা সমাধানে তাদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।
নারায়ণগঞ্জ শহর এখন হকারদের দখলে, ফুটপাতে মানুষের হাঁটার জায়গা নেই। চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত যানজটে স্থবির হয়ে থাকে জনজীবন। শহরের বিভিন্ন সংস্কার কাজ মাসের পর মাস ধীরগতিতে চলায় মানুষের ভোগান্তি আকাশচুম্বী। অথচ সরকারি দলের এমপি কিংবা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের ওপর এসব সমস্যা সমাধানে চাপ সৃষ্টি করতে জামায়াত কোনো ধরণের সভা-সমাবেশ বা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে না।
সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, জামায়াত নেতারা নির্বাচনের আগে বড় বড় কথা বললেও এখন তারা কেবল ‘ইনডোর’ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জামায়াতের দায়িত্ব ছিল জনগণের পক্ষে কথা বলা। কিন্তু তারা এখন না পারছে হকারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে, না পারছে প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে। তারা কি তবে শুধু ভোটের অংক কষতেই মাঠে নামে?”
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আবদুল জব্বার এবং কেন্দ্রীয় নেতা মাঈনুদ্দিন আহমাদের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কেন রাজপথে নেই, তা নিয়ে খোদ দলীয় কর্মীদের মধ্যেই কানাঘুষা চলছে। যেখানে তারা তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের দাবি করে, সেখানে বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে তাদের ‘নীরবতা’ সরকারকে প্রকারান্তরে সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে লক্ষ লক্ষ ভোট পাওয়া একটি দল যদি কেবল ভোটের সময় ছাড়া সাধারণ মানুষের পাশে না থাকে, তবে আগামীতে ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা তাদের জন্য কঠিন হবে। দৃশ্যমান উন্নয়ন আর চাঁদাবাজমুক্ত নারায়ণগঞ্জের দাবিতে মানুষ যখন হাহাকার করছে, তখন জামায়াতের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ রাজনৈতিক মহলে বড় ধরণের প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।







