বিসিকে কিশোর গ্যাংয়ের ‘উৎপাত’: আতঙ্কে কয়েক লাখ শ্রমিক

0
নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্প এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক।
ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার আশঙ্কায় শ্রমিকরা।

মো. সাইফুল ইসলাম সায়েম: পবিত্র ঈদুল ফিতর আসতে এখনো কিছুদিন বাকি, কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরী ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে ‘কিশোর গ্যাং’ বাহিনীর অপতৎপরতার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। প্রতি বছর ঈদের আগে গার্মেন্টস শ্রমিকরা যখন বেতন ও বোনাসের টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরেন, তখনই এই অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বরাবরের মতো এবারও তুচ্ছ অজুহাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শ্রমিকদের কষ্টার্জিত টাকা ও মোবাইল ফোন লুটে নিতে ততপর হচ্ছে এই বখাটেরা।

সাধারণত ঈদের ১০-১২ দিন আগে থেকেই শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে বেতন ও বোনাস দেওয়া শুরু হয়। এই সময়টিকেই মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। বিসিকের ভেতরের সরু গলি, মাসদাইর, পঞ্চবটী, শিবু মার্কেট এবং এনায়েতনগর এলাকার অন্ধকার মোড়গুলোতে এখন থেকেই দলবদ্ধ কিশোরদের আনাগোনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তারা কোনো কারণ ছাড়াই পথচারীদের গতিরোধ করা কিংবা উস্কানিমূলক আচরণ করে, যা পরবর্তীতে বড় কোনো ছিনতাই বা হামলায় রূপ নিয়ে থাকে বলে মনে জানায় স্থানীয়রা।

বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, এই কিশোররা কোনো সুনির্দিষ্ট শত্রুতা ছাড়াই শ্রমিকদের পথ আটকে দেয়। “কেন আমার দিকে এভাবে তাকালি?” কিংবা “তোর ব্যাগে কী আছে?”-এমন সব ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয় তারা। যখনই কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তখনই চক্রের অন্য সদস্যরা শ্রমিকের পকেটে থাকা মোবাইল ও ঈদ বোনাসের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। জনবহুল বিসিক এলাকায় পুলিশের বড় বড় টহল থাকলেও অলিগলির ভেতর এই কিশোরদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এখনো বড় কোনো অঘটন না ঘটলেও শ্রমিকদের মধ্যে আগাম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিসিকের একাধিক শ্রমিক জানান, গত কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যার পর কারখানার গেটে বা কলোনির মুখে অপরিচিত কিশোরদের সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমিকদের মতে, প্রশাসন এখনই কঠোর না হলে বেতন পাওয়ার দিনগুলোতে বাড়ি ফেরা মুশকিল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সচেতন মহলের মতে, ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে ঘটনা প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। ঈদের এই সময়টাতে বিসিকের ভেতরে এবং আশেপাশে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে যে সব স্পটে কিশোররা আড্ডা দেয়, সেখানে চিরুনি অভিযান চালানো দরকার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিসিকের অলিগলিতে নিয়মিত সাইকেল বা মোটরসাইকেল টহল বাড়ানো। সন্দেহভাজন কিশোরদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করা। বেতন-বোনাস দেওয়ার দিনগুলোতে কারখানাগুলোর সামনে ও শ্রমিক কলোনিগুলোতে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা উচিত।

নারায়ণগঞ্জের এই বৃহৎ শিল্পাঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে এবং শ্রমিকদের ঈদের আনন্দ নিশ্চিত করতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এখনই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কারখানা মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।