জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আলোচনায় মাসুকুল ইসলাম রাজীব

পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও অতীতের ত্যাগের কারণে এগিয়ে রয়েছেন তিনি

2
নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা মাসুকুল ইসলাম রাজীব।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রশাসক হিসেবে তৃণমূলের পছন্দে এগিয়ে মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব নেয়। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৭টি আসন।

নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সরকার গঠনের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের পরবর্তী প্রশাসক?

শুরুতে এই পদের জন্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামানের নাম জোরালোভাবে শোনা যায়। তবে ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই পদ নিতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। ফলে বর্তমানে এই পদের জন্য মূল আলোচনায় আছেন দুজন— জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক নেতা ও তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে দখল, লুটপাট বা চাঁদাবাজির মতো নানা অভিযোগ উঠলেও, মামুন মাহমুদ ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব ছিলেন একেবারেই ব্যতিক্রম। এই দুজনের গায়ে কোনো অনিয়মের দাগ লাগেনি। রাজনীতিতে দুজনেরই রয়েছে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন (ক্লিন) ইমেজ।

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই পদের জন্য অত্যন্ত যোগ্য একজন প্রার্থী। তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এবং আইডল হিসেবে পরিচিত মাসুকুল ইসলাম রাজীব দলের প্রতি তাঁর অতীত ত্যাগের কারণে এই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।

এর পেছনের কারণ হিসেবে জানা যায়, ২০২৩ সালের জেলা বিএনপির সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম ফারুক খোকনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রাজীব। কিন্তু দলে যেন কোনো বিভেদ বা গ্রুপিং তৈরি না হয়, সেজন্য তিনি স্বেচ্ছায় ত্যাগ স্বীকার করেন এবং খোকনকে পদটি ছেড়ে দেন। ওই সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিন তিনি রাজীবের প্রশংসা করে বলেছিলেন, “রাজীবের কাছ থেকে সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। দলের স্বার্থে রাজীবের এই ত্যাগ আমরা ভুলবো না।”

শুধু অতীত নয়, সাম্প্রতিক সময়েও রাজীব নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমান দেশে ফিরে নারায়ণগঞ্জে দুটি বিশাল নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। এই দুটি অনুষ্ঠানেরই সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন রাজীব। তাঁর চমৎকার ও সাবলীল উপস্থাপনা তারেক রহমানসহ উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মাসুকুল ইসলাম রাজীব অনেক আগে থেকেই তারেক রহমানের ‘গুডবুকে’ রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্লিন ইমেজ, অতীত ত্যাগ এবং হাইকমান্ডের সুনজরে থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে রাজীবের আসীন হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তবে অধ্যাপক মামুন মাহমুদও যে এই পদের একজন অত্যন্ত সম্মানজনক ও যোগ্য দাবিদার, তাতে কারও কোনো সন্দেহ নেই। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের অপেক্ষার পালা— দল চূড়ান্তভাবে কার কাঁধে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেয়!