
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় গতকাল সকালে ঘটে ভয়াবহ একটি ঘটনা, যেখানে ছিনতাইয়ের সন্দেহে এক যুবককে জনতা আটক করে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই জনতা ছিনতাইকারীকে ধরে বেধড়ক পিটিয়ে মারার পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও আগুনে ভস্মীভূত করে। নিহত যুবকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী অটোরিকশা থামিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। বিষয়টি লক্ষ্য করে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এক পর্যায়ে একজনকে আটক করে এবং তার ওপর হামলা শুরু করে, যখন অন্যরা পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবক ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, পুলিশ সময়মতো নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে মানুষ নিজেই অপরাধীদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজে অযৌক্তিক প্রতিশোধের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শহরের শিক্ষামণ্ডল এলাকার দোকানদার মিজান মিয়া বলেন, এখানে আর দুপুরে বের হওয়া নিরাপদ নয়; আগে পুলিশ দ্রুত আসে, টহল দেয়। এখন আমরা নিজেরাই পাহারা দিই, কিন্তু এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়।
আরেক বাসিন্দা রিমা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো অনেক বেড়ে গেছে। আমরা প্রতিদিন ভয় পাচ্ছি। পুলিশের উপস্থিতি কম, আর অপরাধীরা সহজেই ঘুরে বেড়ায়। এখন আমাদের নিরাপত্তার জন্য নিজেই সচেষ্ট হতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্থিরতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার জন্য নিজেদের উদ্যোগ নিচ্ছে। আগেরকালের ঘটনার মতোই কিছুদিন আগে স্থানীয়রা ছিনতাই চক্রের একজন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছেন। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন স্বীকার করছে যে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যখন সাধারণ মানুষ মনে করবে পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তখন তারা নিজেরাই বিচার কার্যকর করার চেষ্টা করবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বিরাট ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা শুধু নিরাপত্তা চান না, তারা চাইছেন আইনের শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক যাতে আর কোন পরিবার নিজের নিরাপত্তার জন্য ভয় পায় না। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে তারা অপরাধ প্রবণ এলাকায় টহল বৃদ্ধি ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে এবং জনগণকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
শহরের সাধারণ মানুষ বলছে, আমরা চাই যেন পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক। আর আমাদের শিশু ও পরিবার নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অন্য একজন বলেন, এভাবে চলতে থাকলে শিশু ও প্রবীণরা নিরাপদ নয়। আমাদের শহরকে আবার শান্তিপূর্ণ এবং সুরক্ষিত করা দরকার।
নারায়ণগঞ্জবাসী এই মুহূর্তে ভাবছে কিভাবে শহরটিকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো জায়গা হিসেবে ফিরিয়ে আনা যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগই আগামী দিনের নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।







