
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম এর ভূমিকা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। এমপি নির্বাচিত হওয়ার প্রায় বিশ দিন পেরিয়ে গেলেও এই সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়ন কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। অনেকের প্রশ্ন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কি তার সাংসদীয় দায়িত্বের বাইরে, নাকি তার কার্যক্রম কেবল বন্দর এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
সাধারণভাবে একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব কেবল নির্বাচনী এলাকার সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না। উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ আনা, মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নীতিগত চাপ সৃষ্টি এসব ক্ষেত্রেই একজন এমপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সে জায়গা থেকেই নগরবাসীর একটি বড় অংশ আশা করেছিল, নির্বাচনের পরপরই এডভোকেট আবুল কালাম নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো যানজট, চুরি-ছিনতাই, মাদক, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক সেবা সংকট নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো তৎপরতা দৃশ্যমান না হওয়ায় হতাশা ও প্রশ্ন বাড়ছে।
এদিকে একই সময়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনের ক্ষেত্রে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সেবা তদারকিতে বেশ তৎপর হয়ে উঠেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই তার এই সক্রিয়তা নগরবাসীর নজর কেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সফলতা কতটুকু হবে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হবে। তবে শুরুতেই তার মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ও সক্রিয়তা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে একই সময়ে যদি সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামও সমন্বিতভাবে ভূমিকা রাখতেন, তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরও গতি আসতে পারত কি না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন এমপি ও একজন সিটি প্রশাসকের মধ্যে সমন্বয় থাকলে নগর উন্নয়ন অনেক বেশি কার্যকর হয়। এমপি জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণ ও বরাদ্দ আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন, আর সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারেন। এই দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি মিলেমিশে কাজ করেন, তাহলে নারায়ণগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব।
কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত এডভোকেট আবুল কালামের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন এলাকার উন্নয়ন বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান কিংবা কর্মপরিকল্পনা সামনে আসেনি। ফলে জনমনে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে, তিনি কি সত্যিই নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে পারবেন, নাকি তার রাজনৈতিক ও সাংসদীয় তৎপরতা বন্দর এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো সমন্বিত নেতৃত্ব। নগরবাসী এখন দেখতে চায় এডভোকেট আবুল কালাম ও এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আলাদা আলাদা অবস্থান থেকে নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করে কীভাবে নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেন। এই সমন্বয় আদৌ গড়ে ওঠে কি না, সেটাই আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ও নগর জীবনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।







