
দেশের নিট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের তীব্র রোষানলে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা প্রায় দুই ঘণ্টা এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরাম (নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, ইফতার অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন উভয়ই আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। মোহাম্মদ হাতেমকে মঞ্চে উপস্থিত দেখে ক্ষুব্ধ হন এমপি আল আমিন এবং তিনি এক মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান। বক্তব্য প্রদানকালে তিনি সরাসরি মোহাম্মদ হাতেমকে লক্ষ্য করে বলেন, “আমি ফ্যাসিস্টের দোসরের সাথে এক মঞ্চে বসবো না।”
এমপির এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর অনুষ্ঠানস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মোহাম্মদ হাতেম তাৎক্ষণিক অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলে তার সমর্থনে শত শত ব্যবসায়ী ও অনুসারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা পুরো অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করে এমপি আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং বিকেএমইএ সভাপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বলেন, “মোহাম্মদ হাতেম কোনো চাটুকার নেতা নন; তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আমাদের ভোটে নির্বাচিত বিকেএমইএ’র সভাপতি। তিনি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা ব্যবসায়ীদের প্রধান নেতা। তাকে অপমান করা মানে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে অপমান করা। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
বিসিক এলাকার একাধিক শিল্পমালিক জানান, “মূলত মোহাম্মদ হাতেমের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ীবান্ধব ভূমিকার কারণেই আমরা প্রতিকূল পরিবেশেও নারায়ণগঞ্জে শিল্পকারখানা টিকিয়ে রেখেছি। আজ তিনি না থাকলে আমরা অনেক আগেই আমাদের ব্যবসা গাজীপুর বা অন্য জেলায় স্থানান্তর করে ফেলতাম। আমাদের অভিভাবককে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার সাহস এমপি কোথায় পান?”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফতুল্লা থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) হাছিনুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্ধার করে চাষাড়ায় এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে তাকে পৌছে দেয়।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, “পেশাজীবী ফোরামের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) হাছিনুজ্জামান জানান, রাত ৮টায় এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্ধার করে চাষাড়ায় তাদের দলীয় কার্যালয়ে পৌছে দেয়া হয়েছে।
বিকেএমইএ’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সভাপতিকে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়িক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।







