রোজার দিনে এক ঘণ্টা দেরি: এমপি আল আমিনের আচরণে বক্তাবলীবাসীর হতাশা

5
এমপি আল আমিনের অনুষ্ঠানে বিলম্ব
এমপির অপেক্ষায় রোদে পুড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এর কালক্ষেপন ও জনসম্পৃক্ত আচরণ নিয়ে স্থানীয় মহলে এক ধরণের আক্ষেপ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) বক্তাবলী-মধ্যনগর ব্রিজের সংস্কার কাজ উদ্বোধনের নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তার এই বিলম্বে আসার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও ব্যক্তিগত পরিসরে আলোচনা করছেন।

জানা যায়, সোমবার সকাল ১১টায় এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা ছিল। এমপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদেরও আগাম জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী রোজা রেখে প্রখর রোদের মাঝে এলাকাবাসী নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুপুর ১২টারও বেশি সময় পার করে এমপি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি হতাশা তৈরি হয়েছে এমপির আচরণে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা মানুষের কষ্টের কথা ভেবে তিনি কোনো দুঃখ প্রকাশ বা অন্তত বিলম্বের জন্য অনুতপ্ত হননি। এতে উপস্থিত অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে-নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পর কি তবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বা সৌজন্যবোধের পরিবর্তন ঘটল? নির্বাচনের আগে যে বিনয় দেখা যেত, এখন তা অনুপস্থিত কেন-এমন আক্ষেপও ঝরেছে অনেকের কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে সময়ের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তারা মনে করেন, জনগণের সেবা করতে হলে তাদের সময়ের মূল্য দেওয়াটাও জরুরি। নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে হয়তো কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে যাতে সাধারণ মানুষকে এভাবে অপেক্ষায় থাকতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বক্তাবলী এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “আমরা উন্নয়নের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু রোজার দিনে আমাদের এভাবে দাঁড় করিয়ে রেখেও তিনি যখন একটিবার দুঃখ প্রকাশ করলেন না, তখন খারাপ লেগেছে। নেতা হিসেবে তাকে জনগণের প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য যে, এই অনুষ্ঠানে তিনি বক্তাবলী-মধ্যনগর ব্রিজের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কারের কাজ উদ্বোধন করেন এবং মধ্যনগর থেকে দক্ষিণনগর পর্যন্ত নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। উন্নয়নমূলক এসব পদক্ষেপে এলাকার মানুষ আনন্দিত হলেও, নবনির্বাচিত এমপির সময়জ্ঞান ও আচরণের এই দিকটি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।