
ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ শহর দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট ও হকার সমস্যায় জর্জরিত। নগরীর প্রধান সড়ক, ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো প্রায় সারাদিনই যানজটে স্থবির হয়ে থাকে। স্থানীয়দের মতে, এই দুটি সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে পারলেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সফলতা অনেকটাই নির্ধারিত হবে।
নগরবাসীর অভিযোগ, শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নিয়ম ভঙ্গ করে যানবাহন চলাচল, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত দখল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সড়ক, শায়েস্তা খান সড়ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক, চাষাড়া মোড় ও ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট দেখা যায়। এতে করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শুধু যানজটই নয়, শহরের অধিকাংশ ফুটপাতই আরো বহু বছর আগে থেকে হকারদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এখনতো ঈদ উপলক্ষে ছাড় পেয়ে গোটা শহরটাকেই দখলে নিয়েছে হকাররা। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটেন, যা যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শহরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যানজটের কারণে নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় ক্রেতারা শহরে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন, কারণ শহরে ঢুকলেই দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়।
চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা রিফাত হোসেন বলেন, শহরের ফুটপাতগুলো যদি হকারমুক্ত করা যায় এবং যানবাহন শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায়, তাহলে নারায়ণগঞ্জ অনেকটাই স্বস্তির শহরে পরিণত হবে।
কালীবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, প্রতিদিন দোকানে আসতে গিয়ে দীর্ঘ সময় যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রশাসন যদি কঠোর হয়, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।
একজন শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত হলে পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। এখন তো অনেক জায়গায় ফুটপাত বলেই কিছু নেই।
সচেতন মহলের মতে, যানজট ও হকার সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে একসাথে কাজ করতে হবে। অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কারণ নারায়ণগঞ্জ শহরকে যদি সত্যিকার অর্থে যানজটমুক্ত ও হকারমুক্ত করা যায়, তবে সেটিই হবে বর্তমান নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আর এই সমস্যা যদি রয়ে যায়, তাহলে সেটিই নাগরিকদের কাছে বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।







