নারায়ণগঞ্জে পরিবহনে নতুন সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজি

বাড়তি ভাড়ায় দিশেহারা যাত্রীরা

2
নারায়ণগঞ্জে বাসের টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন।
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়ার চাপে পিষ্ট নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

আর মাত্র ৫-৬ দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জের লাখো মানুষ। কিন্তু স্বস্তির এই ঈদযাত্রায় গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত বাস ভাড়া। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, বরং এর মাত্রা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছে, খোলস পাল্টে নতুন চেহারায় চাঁদাবাজি চললেও প্রশাসন অনেকটাই নীরব। আর চাঁদাবাজির এই খেসারত গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। জীবন-জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলার কয়েক লাখ মানুষের বসবাস এই জেলায়। ঈদ এলেই এখান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে নিজ নিজ গ্রামে ফেরেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতি বছরই পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের চাষাঢ়া এলাকার চাঁদমারী ও মেট্রোহল, মাসদাইর ফারিয়া গার্মেন্টস এলাকা, বিসিক শিল্প নগরী এবং পঞ্চবটির মোড়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগাং রোডে আন্তঃজেলা বাসগুলোর অসংখ্য কাউন্টার রয়েছে। একসময় এসব কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ওসমান পরিবারের নাম ভাঙিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি চলতো বলে জানা যায়।

সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হয়তো এই নৈরাজ্যের অবসান হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিবহন ব্যবসায়ী ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, চাঁদা আদায় বন্ধ তো হয়ইনি, উল্টো চাঁদার পরিমাণ এখন আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় পাতি নেতারা নতুন সিন্ডিকেট তৈরি করে এই চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

চাঁদাবাজির এই যাঁতাকলে পিষ্ট পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাউন্টার সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ভাই কী আর বলব! সরকার বদলায়, কিন্তু আমাদের ভাগ্য বদলায় না। আমরা সবসময়ই নির্যাতিত। রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা দিতে হলে বাধ্য হয়েই তো সেই টাকা যাত্রীদের পকেট থেকেই তুলতে হয়।”

এদিকে, ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চললেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন একেবারেই নিশ্চুপ। মহাসড়ক বা কাউন্টারগুলোতে তদারকির কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই চোখে পড়ছে না। প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকার কারণে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে ঘরমুখো সাধারণ মানুষের মনে।

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই নৈরাজ্য ও ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।