
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের সময় পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রশাসনিকভাবে স্বস্তিতে কাজ করার সুযোগ পাননি এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী দুই এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান মেয়রের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিবর্তে অসহযোগিতার পথ বেছে নেন বলে স্থানীয় মহলের অভিযোগ। বিশেষ করে শহর থেকে হকার উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনের উদ্যোগে শামীম ওসমানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য বাধা আসে বলে তখনকার বাস্তবতা তুলে ধরেন নগরবাসী। ফলে চাষাঢ়া মোড় থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অংশে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ বারবার থমকে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রশাসনে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর সঙ্গে সিটি করপোরেশন এলাকার সংসদ সদস্যদের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়ায় প্রশাসনিক সমন্বয় আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব এডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান উভয়েই প্রশাসক সাখাওয়াতের উদ্যোগে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছেন। বিশেষ করে এমপি আবুল কালাম ঘোষণা দিয়েই মাঠে নেমে প্রশাসককে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ মূলত শহরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে। বিশাল সিটি করপোরেশনের তিনটি থানার মধ্যে শহর এলাকার দিকেই জনদৃষ্টি সবচেয়ে বেশি। চাষাঢ়া মোড় থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত সড়ককে যানজটমুক্ত করা এবং রাস্তার দুই পাশের অবৈধ হকার উচ্ছেদ এই দুই কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই নগরের চেহারা দ্রুত বদলে যাবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। প্রশাসক সাখাওয়াত দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই রাস্তায় নেমে তদারকি শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
অতীতে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভীর সঙ্গে শামীম ওসমানের সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বহু মানুষ আহত হন, মেয়র নিজেও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন বলে তখন সংবাদে আসে। ওই সহিংসতার পর নগরীতে হকার উচ্ছেদ কার্যত থমকে যায়, যার খেসারত দীর্ঘদিন ভোগ করেছেন সাধারণ মানুষ।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি ভিন্ন। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার বার্তা নিচের স্তরেও প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির প্রত্যাশা বেড়েছে। অতীতের কেন্দ্রীয় দুর্বলতার অভিযোগের বিপরীতে বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে—এমন বিশ্বাস থেকেই নগরবাসীর আশা, মাঠপর্যায়ে এমপি আবুল কালাম ও প্রশাসক সাখাওয়াতের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় খুব দ্রুত নারায়ণগঞ্জ শহরের চেহারা বদলাবে।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, যানজট নিরসন ও হকার উচ্ছেদ এই দুটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান সাফল্য এলেই প্রশাসক সাখাওয়াত ও এমপি আবুল কালামের বিরুদ্ধে থাকা বড় অংশের সমালোচনা প্রশমিত হবে। সব মিলিয়ে সমন্বয়, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর নতুন এক শৃঙ্খলিত অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে এমন প্রত্যাশাই এখন নগরবাসীর।







