
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নগর উন্নয়ন কাজে জড়িতদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী বিভাগ এবং চলমান উন্নয়ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের ডেকে নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন জনগণের স্বার্থে কোনো কাজে দুর্নীতি হলে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপোষ তিনি করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন।
প্রশাসক বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের কাজ ও সেবার ঘাটতিতে ভুগছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোই তার মূল লক্ষ্য। দ্রুত সময়ের মধ্যেই নগরবাসীকে সর্বোচ্চ মানের সেবা দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ জন্য প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের পেশাদারিত্ব, সততা এবং শতভাগ আন্তরিকতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় তিনি আরও বলেন, খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চান। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই তার দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দিন-রাত পরিশ্রম করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ সিটিকে দৃশ্যমানভাবে বদলে দিতে চান তিনি। তার লক্ষ্য—এই শহরকে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর এবং কুয়ালালামপুর–এর মতো পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগরীর কাতারে নিয়ে যাওয়া। এজন্য পরিচ্ছন্নতা, ড্রেনেজ, সড়ক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি একা কিছু করতে পারবো না। আমার অধীনস্থ প্রশাসন যদি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে, তাহলেই নারায়ণগঞ্জের চেহারা বদলানো সম্ভব।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে এই কঠোর অবস্থান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে একটি নতুন শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসকের এই কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কত দ্রুত নারায়ণগঞ্জ একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরীর রূপ পায়। ##







