
বাস্তবে তার কোনো ক্ষমতা নেই। হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ২২টি মামলার আসামি তিনি। মেম্বাররা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন, আর প্রশাসন তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী! বাস্তবে চেয়ার হারালেও, ফেসবুকে তিনি ঠিকই নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ বানিয়ে বসে আছেন!
সম্প্রতি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ডিজিটাল ব্যানার পোস্ট করেছেন। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা- “হাজী আব্দুর রশিদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।”
এলাকাবাসী বলছেন, এই মেম্বারের কারণে পুরো ইউনিয়নের মানুষ এখন চরম বিপদে। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি সম্প্রতি হাইকোর্ট থেকে একটি স্টে অর্ডার (স্থগিতাদেশ) নিয়ে এসেছেন। এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ জরুরি কোনো কাজই করাতে পারছেন না।
সবাই যখন সেবা না পেয়ে দিশেহারা, ঠিক তখনই ফেসবুকে নিজেকে ‘চেয়ারম্যান’ দাবি করে রশিদের এই ঈদ শুভেচ্ছা মানুষের কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটার মতো মনে হচ্ছে।
রশিদের এই কাণ্ড দেখে এলাকার মানুষ রীতিমতো হাসাহাসি করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, “উনার তো বাস্তবে কোনো ক্ষমতা নেই। প্রশাসন উনাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। কিন্তু একটা ছবি বানিয়ে ফেসবুকে ছাড়তে তো আর কেউ বাধা দিতে পারে না!”
তবে অনেকেই বিষয়টিতে চরম ক্ষুব্ধ। পরিষদের অন্যান্য মেম্বাররা বলছেন, “এটি চরম ধৃষ্টতা। যে ব্যক্তির ওপর ৯ জন মেম্বারের লিখিত অনাস্থা রয়েছে, যাকে প্রশাসন অপসারণ করেছে, সে কীভাবে নিজেকে এখনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করে? তারা বলছে, এটি হলো বেহায়া রশিদের নির্লজ্জ তামাশা।
উল্লেখ্য, রশিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সবাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামিকে কোনোভাবেই চেয়ারম্যান পদে মেনে নেওয়া হবে না।
বক্তাবলীর সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা বলছেন, এই ‘ভুয়া চেয়ারম্যানের’ কারণে তাদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা দূর করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে রশিদ মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।







