
আলীরটেক ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার রওশন আলীর বিরুদ্ধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোনো অনুমোদন ছাড়াই একটি ১২ তলা বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ পেশিশক্তি ও অবৈধ টাকার জোরে এই বিলাসবহুল ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকায় বিশাল জায়গা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রওশন মেম্বারের নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন। ভবনের নিচের অংশগুলোতে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হলেও, ওপরের তলাগুলোর নির্মাণকাজ এখনো পুরোদমে চলছে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের গুরুতর অভিযোগ, এই বিশালাকার ভবনটি নির্মাণে রাজউকের কোনো অনুমোদন বা নকশা পাস করা হয়নি। সাধারণ মানুষের জায়গা দখল ও মাটি বিক্রির কোটি কোটি অবৈধ টাকা বৈধ করতেই মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে এই আলিশান ভবন করা হচ্ছে।
রাজউক জানিয়েছে, বহুতল এই ভবনটির নির্মাণকাজ ও অনুমোদনের কাগজপত্র সম্পর্কে তারা বিস্তারিত খোঁজখবর নেবেন এবং নিয়মের ব্যত্যয় প্রমাণ হলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে রওশন মেম্বারের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল কেটে দেন।
আলীরটেক এলাকাবাসী জানান, রওশনের বাবা কাদের মিয়া পেশায় একজন সাধারণ জেলে ছিলেন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি তিনি কোটিপতি বনে যান।
জানা গেছে, সরকারি খাসজমি ও মানুষের জমি দখল করে ইটভাটা বানিয়েছেন। মাসদাইরের এই অনুমোদনহীন ১২ তলা ভবন ছাড়াও মাসদাইর বাজারে ৩টি দোতলা ভবন, গ্রামে (আলিরটেক) আলিশান বাড়ি এবং কক্সবাজারে একটি ৬ তলা রিসোর্ট রয়েছে তার।
ভবন নির্মাণ ছাড়াও রওশন মেম্বারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, হত্যা মামলার আসামি রওশন মেম্বার সম্প্রতি এই মাসদাইরের ভবনেই একটি বড় গোপন বৈঠক করেছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই এই বৈঠক হয়।
বৈঠকে রওশন মেম্বারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মুহুরী, তার ভাতিজা একাধিক মামলার আসামি মামুন ওরফে নাডা মামুন এবং আওয়ামী লীগ নেতা নোয়াখাইল্লা মহিউদ্দিনের দুই ছেলে- নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা সৌরভ ও সৈকত। তাদের সঙ্গে ফতুল্লা আওয়ামী লীগের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
এছাড়াও, ক্রোকেরচর গ্রামের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম রওশন মেম্বার ও তার পাঁচ ভাই। স্থানীয় জালাল ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মোমেনা বেগম জানান, দুই বছর আগে তাদের ছেলে দিদার হোসেনকে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর তুলে নিয়ে যায় রওশন আলীর লোকজন। একটি রুমে আটকে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ বাথরুমের ফলস ছাদের ওপর লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর ওই পরিবারটিকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের বসতবাড়ি ও সব সম্পত্তি দখল করে নেয় মেম্বার বাহিনী।
মো. ইব্রাহিম নামের আরেক ভুক্তভোগী সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রওশন মেম্বার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তিনি জানান, জমি দখলের উদ্দেশ্যে গত ৫-৬ বছর ধরে রওশন মেম্বার তার জমিতে জোর করে মাটি কাটছেন। বাধা দিলে প্রাণে মেরে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করে রায় পেলেও তা অমান্য করে প্রায় ৭ কোটি টাকার মাটি কেটে নিয়ে গেছে তারা।
স্থানীয়দের দাবি, মাসদাইরে রাজউকের অনুমোদনহীন ভবনের কাজ দ্রুত বন্ধ করে রওশন মেম্বারের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একইসঙ্গে হত্যা মামলার আসামি রওশন মেম্বার, আওয়ামীলীগ নেতা ফজলু মুহুরী, নাডা মামুন এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা সৌরভ ও সৈকতসহ এই চক্রটিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।







