
এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক নারী সদস্য ও বিএনপি নেত্রী রোজিনা বেগম এক সময় পরিচিতি পান একজন সাহসী করোনা যোদ্ধা হিসেবে। করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে যখন মৃত্যুভয়ে স্বজনরাও দূরে সরে যাচ্ছিল, তখন তিনি ঝুঁকি নিয়ে করোনায় মারা যাওয়া নারীদের গোসল করানোর দায়িত্ব পালন করেন। মানবিক এই উদ্যোগে তিনি এলাকায় প্রশংসা কুড়ান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। সে সময় দৈনিক প্রথম আলো সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার এই মহৎ কাজ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই দুঃসময়ে রোজিনা বেগম শুধু একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন না, বরং ছিলেন মানবতার প্রতীক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি মৃতদের সম্মানজনক দাফন ও গোসলের ব্যবস্থা করেন—যা অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয় সাহসের কাজ।
তবে জনপ্রিয়তা ও মানবিক ভূমিকার পরও বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে হারাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন পলাতক গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান এবং স্ত্রী লিপি ওসমান। ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে জোরপূর্বক ব্যালটে সিল মারার মাধ্যমে রোজিনা বেগমকে পরাজিত করা হয় বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
এরপরও রাজপথ ছাড়েননি রোজিনা বেগম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে আবারও নিজেকে জনগণের পাশে থাকা একজন সাহসী নেত্রী হিসেবে তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর মনোনয়ন চাইবেন। ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অতীতে বৃহত্তর মাসদাইর এলাকার জনবহুল তিনটি ওয়ার্ড থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ায় তার শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, করোনা মহামারির সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো রোজিনা বেগম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে এনায়েতনগরে মানবিক ও সেবামুখী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
মানবতা, সাহস ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা রোজিনা বেগমের এই পথচলা এখন নতুন মোড়ে জনগণের প্রত্যাশা, তিনি এবার নেতৃত্বের সর্বোচ্চ দায়িত্বে পৌঁছাতে পারবেন।







