
নারায়ণগঞ্জের গোগনগরে আবাসিক এলাকায় অবৈধ কেমিক্যাল কারখানার আগুনে ভস্মীভূত হওয়া ভবনের মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আজ (শনিবার) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী মোঃ আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ জানান, দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রবাস জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে গড়া তার স্বপ্ন এখন কেবলই পোড়া ধ্বংসস্তূপ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আশিফ আহাম্মেদ আওলাদ বলেন, “আমি ২৫ বছর সিঙ্গাপুরে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা জমিয়ে পৈত্রিক জমির ওপর ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে এই দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করেছিলাম। এই বাড়ির ভাড়াই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। গত ২১ জানুয়ারি রাতের আগুনে আমার সেই শেষ সম্বলটুকু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার বিদেশের সব কাগজপত্র, এইচএসসি পাস করা মেয়ের শিক্ষাজীবনের নথিপত্র এবং ঘরের আসবাবপত্র কিছুই রক্ষা পায়নি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে একটি ঘরে সপরিবারে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে তিনি দেখেছেন, ভবনটি পুনর্নির্মাণ ও আসবাবপত্র মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই ফ্যাক্টরি মালিকরা তাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ভয়ভীতি দেখানোয় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আশিফ আওলাদ বলেন, “আমি এখন নিঃস্ব। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে ফ্যাক্টরির মালিক দিলীপ কুমার সাহা জানান, অগ্নিকাণ্ডে তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি তো আর ইচ্ছা করে আগুন লাগাইনি। আমার ধারণা তার ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, তবুও মানবিক কারণে আমি তাকে ২০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি ২ কোটি টাকা দাবি করছেন, যা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে অনেক বিচার-সালিশ হয়েছে। তারা আদালতে গেছেন, আমরা জামিনে আছি। তবুও আমি চাই না তাদের সাথে সম্পর্ক খারাপ হোক।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, গোগনগরের ওই ভবনটি আগুনের তাপে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কীভাবে এমন দাহ্য পদার্থের কারখানা গড়ে ওঠে? একটি প্রবাসীর তিলে তিলে গড়া সম্পদ রক্ষায় এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় সচেতন মহল।







