১১ মামলার আসামি হয়েও কীভাবে বহাল রশিদের মেম্বার পদ? আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, ক্ষুব্ধ বক্তাবলীবাসী

0
বক্তাবলী ইউনিয়নের বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ।
বক্তাবলী ইউনিয়নের বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ।

নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন ১নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ। পিংকি আক্তার নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় ইউনিয়নে স্বস্তি ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এখন নতুন এক প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যাসহ ১১টি মামলার আসামি এবং ৯ জন মেম্বারের অনাস্থা থাকার পরও আব্দুর রশিদ কীভাবে এখনো ইউপি সদস্য (মেম্বার) হিসেবে বহাল আছেন?

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আইনের ফাঁকফোকর গলে কি জনপ্রতিনিধির লেবাসে পুনরায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির সুযোগ পাবেন রশিদ?

আইন কী বলছে? স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ এবং ৩৯ ধারা অনুযায়ী— কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পেলে, ক্ষমতার অপব্যবহার করলে অথবা পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অনাস্থা জানালে তাকে সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং ছাত্র হত্যাসহ ১১টি মামলা চলমান। শুধু তাই নয়, তার স্বৈরাচারী আচরণ ও দুর্নীতির কারণে পরিষদের ১২ জন সদস্যের মধ্যে ৮/৯ জন মেম্বারই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সদর ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পিংকি আক্তারকে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ আইনে সুস্পষ্ট বিধান এবং জনপ্রতিনিধিদের অনাস্থা থাকার পরও আব্দুর রশিদের মেম্বার পদ কেন এখনো বাতিল করা হয়নি— তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বক্তাবলীর সচেতন মহলের দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরানো হলেও, মেম্বার পদ ব্যবহার করে তিনি পুনরায় এলাকায় ভূমিদস্যুতা ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যার হাতে ছাত্রদের রক্ত, যে নারী সহকর্মীকে গুম করার হুমকি দেয়, সে কোনোভাবেই আমাদের জনপ্রতিনিধি হতে পারে না। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে, এবার আমরা চাই তাকে মেম্বার পদ থেকেও আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হোক।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বার জানান, রশিদের মতো একজন দাগী আসামির সাথে একই পরিষদে বসা তাদের জন্য অস্বস্তিকর ও হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে আব্দুর রশিদের ইউপি সদস্য পদ চূড়ান্তভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, অনাস্থা এবং ছাত্র-জনতার দাবির মুখে প্রশাসন এই বিতর্কিত মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে তাকে চূড়ান্ত অপসারণ করে কি না।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াসমিন স্যারের সাথে কথা বলেন।

তবে, নারায়ণগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াসমিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।