ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়ার নৈরাজ্য: ৪৫ টাকার ভাড়া এখন ৫৫

10
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়ার নৈরাজ্য: ৪৫ টাকার ভাড়া এখন ৫৫,
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়ার নৈরাজ্য: ৪৫ টাকার ভাড়া এখন ৫৫,

ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারভিত্তিক ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে পরিবহন মালিকরা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ২.২৩ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। সে হিসেবে গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার হলে ভাড়া দাঁড়ায় আনুমানিক ৪৪/৪৫ টাকার মধ্যে। এই ১৯ কিলোমিটার দূরত্বটি নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক-এর হিসাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

কিন্তু বাস্তবে বন্ধন ও উৎসব পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫৫ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত হিসাবের তুলনায় ১০/১২ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

এই রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত যাত্রী চলাচলের করিডোর হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যাতায়াত করে, যার বড় একটি অংশ বাসনির্ভর। শুধু এই রুটেই প্রায় আড়াইশ (প্রায় ২৫০) বাস নিয়মিত চলাচল করে থাকে বলে জানা গেছে। ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন কোটি মানুষের যাতায়াতের বড় অংশই বাসের ওপর নির্ভরশীল—যা এই রুটের চাপের চিত্রও তুলে ধরে।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলেছে। সংগঠনটি মনে করছে, নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা যাত্রীস্বার্থের পরিপন্থী।

অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা বলছেন, জ্বালানি খরচ, টোল ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এবং তা প্রয়োজনীয় ছিল।

যাত্রীদের অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন যাত্রীর অভিজ্ঞতায়। গুলিস্তান থেকে প্রতিদিন যাতায়াতকারী আশিক মাহমুদ বলেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় এবং এতে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে কর্মরত রুমা আক্তার জানান, মাস শেষে বেতন হাতে পাওয়ার আগেই শুধু যাতায়াত খরচই অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা তার মতো আরও অনেকের জন্য বড় কষ্টের কারণ।

আরেক যাত্রী মাহবুব হোসেন বলেন, একই রুটে ভিন্ন ভিন্ন বাসে ভিন্ন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থাটিকেই অনিয়ন্ত্রিত ও সিন্ডিকেটনির্ভর করে তুলেছে।

এদিকে সাধারণ যাত্রীদের দাবি, ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং অতিরিক্ত আদায় বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপরিবহন খাতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অসঙ্গতি অব্যাহত থাকবে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।