ছেলের পর মাকে হত্যা? সমাজের সর্বত্র আতংক

1
নারায়ণগঞ্জে শুভ হত্যা ও মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু: জনমনে আতঙ্ক
নারায়ণগঞ্জে শুভ হত্যা ও মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু: জনমনে আতঙ্ক

নারায়ণগঞ্জে যুবক শুভ হত্যাকাণ্ড আর তার মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু এই দুই ঘটনায় এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা। এখানে শুধু খুন হয়নি, ধাপে ধাপে ভেঙে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, উপহাস করা হয়েছে বিচারব্যবস্থাকে, আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

শুভকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা এটি কোনো আকস্মিক অপরাধ ছিল না, বরং ছিল পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ এবং প্রকাশ্য শক্তি প্রদর্শনের এক জঘন্য উদাহরণ। এরপর তার মায়ের রহস্যজনক মৃত্যু সেই অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্যকে আরও নগ্নভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশ্ন একটাই এটি কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি আইনের শাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

অভিযোগের তীর সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দিকেই। অপহরণের রাতেই পরিবারের আর্তি উপেক্ষা করা হয়েছে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, যার ফলেই একটি তরতাজা প্রাণ হারাতে হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন জনমনে ক্ষোভের আগুন জ্বালাচ্ছে। তিন দিন পর মামলা নেওয়া যেন দায়িত্ব এড়ানোর এক নগ্ন দৃষ্টান্ত।

এদিকে মামলার প্রধান আসামিসহ অধিকাংশ অভিযুক্ত এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয়দের অভিযোগ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় দাপট দেখাচ্ছে, এমনকি দেশ ছাড়ার সুযোগও পাচ্ছে। এটি শুধু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো নয়, বরং পুরো বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করার শামিল।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো নিহতের মা নিজেই যখন নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে গেছেন, তখন তার সেই আশঙ্কা অবহেলা করা হয়েছে। আর এখন তার অস্বাভাবিক মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: একজন মামলার বাদী কি এই দেশে নিরাপদ নন? নাকি বিচার চাইতে গেলেই তাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার অঘোষিত সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে?

ঘটনার পেছনে পূর্ব বিরোধের বিষয়টি সামনে এলেও, সেটি কোনোভাবেই এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের যৌক্তিকতা দিতে পারে না। বরং এটি প্রমাণ করে—একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রতিশোধ নিয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়ায় আইনকে পুরোপুরি অকার্যকর করে রেখেছে।

এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয় এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা হতাশার বিস্ফোরণ। মানুষ দেখছে, খুন হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বিচার হচ্ছে না। ফলে আইনের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা যদি দ্রুত ও কঠোরভাবে দমন করা না হয়, তবে এটি একটি বিপজ্জনক নজির হয়ে দাঁড়াবে যেখানে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়বে।

এখন সময় এসেছে দায় এড়ানোর নয়, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার। অবিলম্বে পলাতক সব আসামিকে গ্রেপ্তার, মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি হয়ে থাকবে না, বরং এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার এক স্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। ##