ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে লাঠি হাতে নামতে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জবাসী

নারায়ণগঞ্জে হকারদের ‘শক্তি প্রদর্শন’: পাল্টা লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি নগরবাসীর

0
নারায়ণগঞ্জে ফুটপাত দখলমুক্ত করার দাবিতে সাধারণ মানুষের অবস্থান ও হকারদের মিছিল।
হকারদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের রাজপথ।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের কঠোর অবস্থানের মুখে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে হকাররা। গত তিন দিন ধরে ‘পুনর্বাসনের’ অজুহাতে দফায় দফায় মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে হকাররা রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে। তবে নগরবাসী বিষয়টিকে দেখছে ফুটপাত পুনরায় দখলের একটি সুপরিকল্পিত ‘পায়তারা’ হিসেবে। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—পেশিশক্তি দেখিয়ে ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে এবার লাঠি হাতে রাজপথে নামবে তারা।

দীর্ঘদিন পর ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় শহরবাসী যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, ঠিক তখনই হকারদের এই আন্দোলন নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। সচেতন নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দিয়ে হাঁটা নাগরিক অধিকার। সিটি কর্পোরেশনকে উচ্চহারে ট্যাক্স দেওয়ার পরেও কেন সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হবে?

চাষাঢ়ার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাত আমাদের হাঁটার জন্য নির্মিত হয়েছে, হকারদের ব্যবসার জন্য নয়। আমরা পুনরায় হকার নামীয় দখলবাজদের হাতে জিম্মি হতে চাই না। প্রশাসন যদি তাদের রুখতে না পারে, তবে আমাদের অধিকার আদায়ে আমরাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো।”

হকাররা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে সংগঠিত হয়ে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ উঠেছে, হকারদের এই মিছিলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং শহরজুড়ে এক ধরণের ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। নগরবাসী বলছে, আমরা অনেক সহ্য করেছি, আর নয়। হকারদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পিছপা হবে না।

শহরবাসীর দাবি, প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ফুটপাতে একটি চকি বা ডালা বসাতে দেওয়া যাবে না।

নারায়ণগঞ্জের রাজপথ এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের ময়দান। একদিকে হকারদের দখলদারিত্বের লড়াই, অন্যদিকে নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে সাধারণ মানুষের অনড় অবস্থান। হকাররা যদি তাদের ‘শক্তি প্রদর্শন’ বন্ধ না করে, তবে সাধারণ নগরবাসীর ‘পাল্টা লড়াই’ শহরকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।