ভেঙে পড়তে পারে নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থা: খানপুর টার্মিনাল নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় নগরবাসী

0
খানপুর টার্মিনাল ও নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক জ্যাম।
খানপুর টার্মিনালকে কেন্দ্র করে চাষাড়া ও লিংক রোডে ভয়াবহ যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র খানপুরে ১৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কন্টেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। সাধারণ মানুষের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট বাইপাস সড়ক বা
যাতায়াতের সুব্যবস্থা না করে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান নড়বড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। ইতিমধ্যেই বালু ও পাথর প্রকল্প এলাকায় আসা শুরু হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা।

নগরবাসীর মতে, নারায়ণগঞ্জ শহরের একমাত্র প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ হলো চাষাড়া মোড় এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। বর্তমানে এই সড়কে যে পরিমাণ যানজট থাকে, তা সামলাতেই ট্রাফিক বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। এর ওপর শত শত বিশালাকৃতির কন্টেইনারবাহী লরি ও ট্রেইলর যদি এই সড়ক ব্যবহার করা শুরু করে, তবে সাধারণ যানবাহন চলাচলের আর কোনো জায়গা থাকবে না। এতে ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে নগরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হবে, যা পুরো শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে অচল করে দেবে।

নারায়ণগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং অধিকাংশ স্থানেই জরাজীর্ণ। ৪০ থেকে ৫০ টন ওজনের একেকটি কন্টেইনার লরি এই রাস্তাগুলোর ওপর দিয়ে চলাচল করলে সড়ক দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দানবীয় যানবাহনের চাপে কেবল রাস্তা নয়, বরং রাস্তার নিচের গ্যাস ও পানির পাইপলাইন ফেটেও বড় ধরণের বিপত্তি ঘটতে পারে। যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করে এমন ভারী বন্দর স্থাপন করা মানে হলো পুরো নগরীকে একটি ‘ডেড জোন’ বা মৃত নগরীতে পরিণত করা।

খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এই টার্মিনাল হওয়ায় সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত রোগীরা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে মুমূর্ষু রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চাষাড়ার জট ঠেলে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবে না। এছাড়া বাল্ক টার্মিনালের উড়ন্ত কয়লা ও সিমেন্টের ধুলোয় শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।

ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ-এর সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল এবং নাগরিক নেতা রফিউর রাব্বি ও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বারবার সতর্ক করেছেন যে—সঠিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও বিকল্প রুট ছাড়া এই টার্মিনাল হিতে বিপরীত হবে। তারা মনে করেন, যাতায়াতের নকশা না করে এই পোর্ট করা হলে তা নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতির জন্য সুবিধা আনার বদলে ভোগান্তিই বেশি বাড়াবে।

ক্ষুব্ধ নগরবাসী বলছেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু সেই উন্নয়নের বলি হয়ে নিজেদের চলাচলের অধিকার হারাতে চাই না। যে প্রশাসন এখনো ফুটপাত ও হকার মুক্ত করতে পারেনি, তারা কীভাবে কন্টেইনার লরির জট সামলাবে?” শহরবাসীর দাবি—নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই টার্মিনালটি অবিলম্বে শহরের বাইরে কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করা হোক।

পরিকল্পিত অবকাঠামো ছাড়া খানপুর কন্টেইনার টার্মিনাল নারায়ণগঞ্জের যাতায়াত ব্যবস্থায় ‘শেষ পেরেক’ হিসেবে কাজ করবে। নীতিনির্ধারকরা যদি নগরবাসীর এই যৌক্তিক শঙ্কা আমলে না নেন, তবে অচিরেই প্রাচ্যের ড্যান্ডি এক চিরস্থায়ী যানজট আর বিশৃঙ্খলার কবলে পড়বে।