
ফতুল্লার গাবতলী ও ইসদাইর এলাকায় সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিহ্নিত অপরাধী ও বহিষ্কৃত নেতা এস এম আব্দুল্লাহ। একের পর এক অপকর্ম, নিরীহ মানুষকে মারধর এবং ‘ফিটিংবাজি’র (মিথ্যা ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়) মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন তিনি। সর্বশেষ এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইসদাইর গাবতলী এলাকার রড ব্যবসায়ী মো. আনোয়ারুল ইসলামের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন আব্দুল্লাহ। বিবাদী আব্দুল্লাহ নিজেকে এলাকার প্রভাবশালী দাবি করে আনোয়ারুলের ব্যবসায়িক কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকালে আনোয়ারুলের বাসায় গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আনোয়ারুল ও তার স্ত্রী মোসাঃ ফারজানা আহমেদকে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নিরুপায় হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী ফেরদৌস জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা তদন্ত শুরু করেছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে এলাকায় অপরাধের পাহাড়সম অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল আব্দুল্লাহর বাড়ির ভাড়াটিয়া এক নারীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর এবং তার খালাতো ভাইয়ের মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। সেই সময় আব্দুল্লাহর মারধরে ওই যুবক গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। লোকলজ্জার ভয়ে এবং আব্দুল্লাহর হুমকির মুখে ওই পরিবারটি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় মুরুব্বীরা বিচারের আয়োজন করলে আব্দুল্লাহ নিজের দোষ স্বীকার করে আর্থিক জরিমানা দিতে বাধ্য হন। কিন্তু সেই শাস্তিতেও তার স্বভাব বদলায়নি, বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, আব্দুল্লাহ এলাকায় অপরাধীদের ‘শেল্টার দাতা’ হিসেবে পরিচিত। উত্তর মাসদাইর ও গাবতলী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়া, ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং সাধারণ মানুষকে তুচ্ছ কারণে ভয়ভীতি দেখানোই তার প্রধান কাজ। এলাকাবাসী বলছেন, আব্দুল্লাহর কোনো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাবতলীর শান্তিপ্রিয় বাসিন্দাদের মতে, আব্দুল্লাহর মতো একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও অপরাধী বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ানো সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
তৃণমূলের মানুষ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন আর আব্দুল্লাহর এই জুলুম সহ্য করতে রাজি নন। তাদের দাবি, আব্দুল্লাহর মতো ‘ফিটিংবাজ’ ও চাঁদাবাজের আসল জায়গা জেলখানা। কোনো মহলের ভয় না পেয়ে পুলিশ যেন দ্রুত এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে, সেই দাবি জানিয়েছেন ইসদাইর ও গাবতলী নতুন বাজার এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। তারা বলছেন, আব্দুল্লাহর এই ত্রাসের রাজত্ব বন্ধ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।







