১৭ হাজার লাইসেন্সে চলছে ৭০ হাজার মিশুক: সাখাওয়াতের বড় চ্যালেঞ্জ

13
নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় অবৈধ মিশুকের জ্যাম এবং যানজট পরিস্থিতি।
নারায়ণগঞ্জে মিশুকের জটে স্থবির জনজীবন; ১৭ হাজার লাইসেন্সের বিপরীতে চলছে ৭০ হাজার গাড়ি।

নারায়ণগঞ্জ শহর এখন আর মানুষের নয়, যেন মিশুকের শহরে পরিণত হয়েছে। যেদিকে চোখ যায়, শুধু চাকা আর চাকা। এক সময়কার ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ এখন পরিচিতি পাচ্ছে ‘মিশুকগঞ্জ’ হিসেবে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) খাতায় বৈধ মিশুকের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৩শ ৪২টি। কিন্তু বাস্তবে শহরের অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অন্তত ৭০ হাজার মিশুক!

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ভয়ংকর জালিয়াতি চক্র শহরের পরিবহন ব্যবস্থাকে গিলে খাচ্ছে। একটি বৈধ মিশুকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার কপি করে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং নাম্বার প্লেট হুবহু নকল হওয়ায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষেও আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব। কিছু অসাধু প্রিন্টিং প্রেস এবং দালাল চক্র লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে শহরের বুকে নামিয়ে দিচ্ছে এসব অবৈধ যান।

শহরের যানজট ভয়াবহ হওয়ার পেছনে বড় একটি কারণ হলো সিটি কর্পোরেশনের সীমানার বাইরের মিশুকগুলো। ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর এমনকি রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকা থেকেও প্রতিদিন হাজার হাজার অটোরিকশা ও মিশুক অবাধে শহরে ঢুকে পড়ছে। কোনো তদারকি না থাকায় এসব গাড়ি প্রধান সড়কগুলো দখল করে রাখে, যার ফলে তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন।

যারা প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনকে ট্যাক্স দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করছেন, সেই প্রকৃত মালিকরা এখন দিশেহারা। বৈধ মালিকদের অভিযোগ, “আমরা টাকা দিয়ে লাইসেন্স করি, আর জালিয়াতরা এক প্লেটে দশ গাড়ি নামিয়ে আমাদের রুজি নষ্ট করছে।” অন্যদিকে, ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে নগরবাসীর সময় লাগছে ১ ঘণ্টা। অসুস্থ রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ছে এই মিশুক জটে।

শহরের এই বিশৃঙ্খলায় ক্ষুব্ধ নগর পরিকল্পনাবিদরা। তাদের প্রশ্ন, “কর্তৃপক্ষ কি আকাশপথে চলাচল করে যে তাদের চোখে এই অনিয়ম পড়ছে না?” সিটি কর্পোরেশনের চরম গাফলতিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা। নিয়মিত অভিযান থাকলে কোনোভাবেই এক নাম্বারের ১০টি গাড়ি চলতে পারত না।

অটো রিকশা মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো ‘ডিজিটাল নাম্বার প্লেট’। যা নকল করা সম্ভব নয়। রংপুরসহ দেশের কিছু শহরে এটি সফলভাবে চালু হয়েছে। নাসিক যদি দ্রুত ডিজিটাল প্লেট এবং কিউআর কোড (ছজ ঈড়ফব) সম্বলিত স্মার্ট কার্ড প্রদান করে, তবে অবৈধ ৫০ হাজারেরও বেশি গাড়ি মুহূর্তেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর খালের জমি উদ্ধার এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সাহসী ভূমিকা রাখছেন। এখন নগরবাসীর একটাই চাওয়া—এই ‘মিশুক সিন্ডিকেট’ ভেঙে শহরকে যানজটমুক্ত করুন। ডিজিটাল প্লেট চালু এবং বাইরের এলাকার গাড়ি শহরে ঢোকা বন্ধ করতে প্রশাসকের কঠোর অ্যাকশনের অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী।