মিঠু- অপু যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে, ওদের হাত পা ভেঙে এলাকা থেকে বের করে দেয়া হবে- বিভা হাসান 

0

নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির উপর মিথ্যা অপবাদ ও চক্রান্তের প্রতিবাদে আলোচনা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার ২৮ আগষ্ট বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৫নং ওয়ার্ডস্থ নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর সাবেক প্যানেল মেয়র-১ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিউনিটি পুলিশির সদস্য আফসানা আফরোজ বিভা হাসান।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, আমি জানি আপনারা ভালো নেই। ভালো না থাকার কারণ হচ্ছে আমরা নিজেরাই। নতুন জিমখানায় আমাদের  একটা পঞ্চায়েত কমিটি হয়েছিল, যেটা আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম। এই পঞ্চায়েত কমিটির কিছুদিন আগে আমাদের একটা সভা হয়েছিল—মাদকবিরোধী সভা। যারা জিমখানায় মাদক বিক্রি করে, তাদের বিরুদ্ধে একটা সভা হয়েছিল এবং আপনারা এই সভায় সাকসেস হয়েছেন, সফল হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের কে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে পেরেছেন।

তিনি আরও বলেন, এত তাড়াতাড়ি যে একটা প্রতিবাদ সভা করতে হবে, সেটা আসলে আমাদের বোধগম্য না। কারণ আমি তো তখন যখন কমিটিটা ঘোষণা দিয়েছিলাম, তখন কিন্তু বলেছিলাম যে কমিটিতে যদি কেউ কমিটির অবাধ্যতা করে, তাহলে আমি এই কমিটিতে থাকব না।

আজ মিঠুকে কেন্দ্র করে আপনারা এত বড় একটা প্রতিবাদ সভা কেন করছেন ? একটা মিঠুর জন্য? এটা কি… এটা আসলে আমাদের জিমখানার জন্য দুঃখজনক। আপনারা সকলেই জানেন নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যে কিন্তু আগে যদি মাদকের স্পট ধরা হতো, তাহলে জিমখানাকে আগে ধরা হতো। এই জিমখানা আর আমার ১৬ নম্বরে যে জিমখানা বস্তিটা ছিল, এই দুইটাকে ধরা হতো।

আজকে নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যে যদি এখন একটু সেফটিতে থাকেন, তাহলে আপনারা আছেন। কারণ এখান থেকে যতটুকু সম্ভব মাদক নির্মূল করতে পেরেছেন, এটা আপনারা সাকসেস হয়েছেন, আমরা না। আপনারা যদি মা-বোনেরা, পুরুষ না, মা-বোনেরা যদি যুদ্ধ না করতেন, তাহলে আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না।

বিভা হাসান বলেন, এখন আমার কথা হলো—এই প্রতিবাদটা কেন? এই প্রতিবাদ সভাটা কেন? আগে যারা কোয়াটারে ছিল, যারা আগে কোয়াটার দখলে রেখে ছিল, দোকান ছিল, আমি পঞ্চায়েতকে অনুরোধ করব যে আপনারা পঞ্চায়েতের আমাদের সহযোগিতা নিয়ে ওদের  যে স্থাপনাগুলি আছে, এটার একটা দাম ধরে ওদেরকে আপনারা দিয়ে দিবেন। কারণ সবাইকে একটা সুযোগ দেওয়া দরকার।

তিনি আরও বলেন, আমি আগেও বলে গেছি এখনও বলছি যদি মাদক ব্যবসায়ীরা ভালো হতে চায়, তাদেরকে অবশ্যই, অবশ্যই ভালো হতে দিতে হবে। কারণ মানুষ ভুল করে, ঠিক আছে? এখন যখন সন্তান হয়ে যায় মানুষের, সন্তান বড় হয়, লেখাপড়া করে স্কুল-কলেজে যায়, তখন কিন্তু ওরাও অনেক সময় চায় যে ওরা পিছন থেকে মানে আগাতে, ওইগুলি ভুলে যেয়ে। আমি পঞ্চায়েতকে বলব যে দোকানগুলি ওদের আছে, কোয়াটারগুলি আছে, এগুলি আপনাদের আন্ডারে নিবেন। আপনারা কোয়াটারের মধ্যে তালা লাগিয়ে চাবিটা থানায় জমা দিবেন। থানায় জমা দেওয়ার পরে ওদের নিয়ে আপনারা ওটার একটা রেট ধরে ওদেরকেই আগে যারা ছিল, ওদেরকে দিবেন।

বিভা হাসান বক্তব্যে আরও বলেন, মিঠু যদি এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করে, মিঠুকে  জিমখানায় আসা বন্ধ করে দিবেন। ও যদি এটা নিয়ে আর্জি করে, ওটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, ওকে জিমখানায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর এই টিকটক-পিকটক এগুলি মাথায় ঢোকাবেন না। ও ফেসবুকে কী দিল, পত্রিকায় কী দিল, নিউজ কী করল—এগুলি মাথায় রেখে কিন্তু আপনারা এগোতে পারবেন না। এগুলি আপনাদের কিন্তু বাধা দিচ্ছে, যাতে আপনারা সামনে না এগোতে পারেন। সুতরাং এগুলোতেই কান দেওয়া যাবে না, এগুলি মাথায় রাখা যাবে না।

আর আপনারা অতি দ্রুত পঞ্চায়েতে বসেন। বসে আজ ওদের আগে যারা ছিল শাহআলম, তানভীর, আলম চাঁন যারাই ছিল, ওদের যে আমরা এখানে বক্তৃতা দেই না? ওদের যা আছে, এটা আপনারা একটা বসে একটা কিছু করবেন। এটা করে ওদেরকে এখান থেকে বিদায় করবেন। আর অপু যদি এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে নেক্সটে ওদের হাত-পা ভাঙিয়া এখান থেকে বের করবো।

নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ফররুখ আহমেদ ফারুক এর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নতুন জিমখানা যুব কমিটির উপদেষ্টা তছলিমা মাজহার জলি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু, নতুন জিমখানা পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,  আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. ইমন, দপ্তর সম্পাদক মো. সানি, যুব কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহান সহ নতুন জিমখানা এলাকার বাসিন্দারা।