নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত অধ্যায় আইভী

মামলা বনাম ন্যায়বিচারের লড়াই

0

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী’র রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং জামিন পাওয়ার পরপরই নতুন করে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর ঘটনাটি দেশের বিচারিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল চিত্র তুলে ধরছে।

সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জের ডাচ-বাংলা ব্যাংকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিক সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মজার বিষয় হলো, এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে, অর্থাৎ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক আগে। অথচ সেই মামলায় আইভীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এখন তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলো। যখনই তিনি কোনো উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাচ্ছেন, তখনই নতুন কোনো পুরনো বা নতুন মামলায় তাকে যুক্ত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি আমাদের দেশের প্রচলিত ‘গ্রেফতারি সংস্কৃতির’ একটি নেতিবাচক দিক কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ডা. আইভী নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একজন প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার দায়ে যখন তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, তখন প্রশ্ন ওঠে—একজন সিটি মেয়রের পক্ষে সরাসরি এ ধরনের সহিংসতায় উস্কানি দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত ছিল, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল?

হাইকোর্ট থেকে একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবারও নিম্ন আদালতের মাধ্যমে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতাকে স্পষ্ট করে। সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অবশ্যই কাম্য; কারণ প্রতিটি প্রাণের মূল্য সমান। তবে সেই তদন্ত যেন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ডা. আইভী একটি অধ্যায়ের নাম। সেই অধ্যায় এখন আদালতের বারান্দায় বন্দি। যদি তিনি অপরাধী হন, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু যদি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুভকর নয়। সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল এই আইনি গোলকধাঁধার অবসান ঘটা সম্ভব।