“ডিক্রীরচর ব্রীজ হলে দেশের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন হবে”: স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা

7
প্রস্তাবিত ডিক্রীরচর ব্রীজ এলাকা, নারায়ণগঞ্জ।
দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত ডিক্রীরচর ব্রীজ নির্মাণের দাবিতে সরব এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীরটেক ইউনিয়নের ডিক্রীরচর খেয়াঘাট দিয়ে ব্রীজ নির্মান করা হলে বিশাল এলাকা নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্তর্ভূক্ত হবে। বক্তাবলী ও বালুচর ইউনিয়নের মানুষ বহু বছর ধরে একটি নতুন ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলাচল ও পণ্য পরিবহনের অসুবিধা, যানজট এবং যোগাযোগের সমস্যা এলাকাবাসীর জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই ব্রীজ নির্মাণ হলে নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে এবং পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে যোগাযোগও অনেক সহজ হবে।

এলাকাবাসী আশা করছেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল্লা আলআমিন দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জীবন বলেন, আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন এই ব্রীজ। এটি নির্মাণ হলে আলীরটেক, বক্তাবলী ও বালুচর ইউনিয়নের সঙ্গে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। কৃষিপণ্যসহ সকল ধরনের পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হবে। এটি শুধু আমাদের এলাকার জন্য নয়, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের পলাতক এমপি সেলিম ওসমান এবং তার ভাই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের পলাতক এমপি শামীম ওসমান বারবার ব্রীজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এতে এলাকায় জনগণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, অনেকবার আশ্বাস শুনেছি, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা আশা করছি, নতুন সরকার এবং স্থানীয় এমপি অবশেষে আমাদের দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান করবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলেন, ব্রীজ নির্মাণ হলে যাতায়াত ব্যয় কমবে, সময় বাঁচবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রসারিত হবে। এটি সরাসরি দেশের জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এলাকাবাসী আরও জানান, ব্রীজটি নির্মাণ হলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও রোগীর জন্য জরুরি যাতায়াতও দ্রুততর হবে। আজকের ছোট বিনিয়োগ আগামীতে দেশের অর্থনীতিকে বড় সুবিধা দেবে, বলেন একজন স্থানীয় উদ্যোক্তা।

এলাকাবাসী সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও তহবিল দ্রুত নিশ্চিত করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর ব্রীজটি বাস্তবায়িত হয়। তারা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এবং সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় আলীরটেক ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষ নৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাবেন, এবং অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও কার্যকর হবে।