বিকেএমইএ সভাপতি হাতেমকে নিয়ে অপপ্রচার: ফতুল্লার ১০০ শিল্প মালিকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

0
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়ে অপপ্রচার করায় ফতুল্লার ১০০ শিল্প মালিকের প্রতিবাদ।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফতুল্লার ১০০ শিল্প মালিকের যৌথ বিবৃতি।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের অপপ্রচারে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা অঞ্চলের শত শত শিল্প উদ্যোক্তা। মোহাম্মদ হাতেমকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে আজ সোমবার (১০ মার্চ) ফতুল্লা অঞ্চলের ১০০ জন শীর্ষ শিল্প মালিক এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমে প্রেরিত এই বিবৃতিতে এমপির বক্তব্যকে ‘সামাজিক শিষ্টাচার বহির্ভূত’ এবং ‘উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করেন তারা।

ফতুল্লা অঞ্চলের ১০০ জন শিল্প উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে মোঃ সেলিম সারোয়ার স্বাক্ষরিত সেই প্রতিবাদী বিবৃতিটি পাঠকদের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:

ফতুল্লার ১০০ শিল্প মালিকের যৌথ ‍বিবৃতি

বিবৃতি: “বিকেএমইএ’র সভাপতিকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের সাংসদ কর্তৃক অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফতুল্লা অঞ্চলের একশত শিল্প উদ্যোক্তার প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ। আমরা গার্মেন্টস শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ফতুল্লা অঞ্চলের কতিপয় উদ্যোক্তাবৃন্দ গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে এনসিপি থেকে সম্প্রতি নির্বাচিত বিরোধী দলীয় স্থানীয় মাননীয় সাংসদ (নারায়ণগঞ্জ-৪, ফতুল্লা) দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ী নেতা যিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব বিকেএমইএ, ইএবি ও বিসিক শিল্প মালিক সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি জনাব মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যায়িত করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, তা ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। আমরা তাঁর এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের একটি ইফতার মাহফিলে তাকে প্রকাশ্যে “ফ্যাসিস্টের দোসর” বলে আখ্যায়িত করার ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও সামাজিক শিষ্টাচার পরিপন্থী বলে মনে করি। আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো সামাজিক বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।

১০০ ব্যবসায়ী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিৃবতি

২১ শে জুলাই’২৪ এ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের নিয়ে ডাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মিটিংয়ে বিকেএমইএ’র ঐ সময়ের নির্বাহী সভাপতি জনাব হাতেমের বক্তব্যের পুরো অংশ তুলে না ধরে মূল অংশ বাদ দিয়ে একটি শব্দকে নিয়ে উদ্দেশ্য মূলক ভাবে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে তিনি জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে কোন কথা বলেননি, বলেছিলেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষার্থে কারখানা চালু রাখা ও ইন্টারনেট সচল রাখার পক্ষে দাবী জানিয়ে ছিলেন যা ছাত্র জনতার পক্ষেই গিয়েছিল। ঐ সময়ে রাজপথ সহ সমগ্র দেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাতে দেশের রপ্তানিখাত প্রচন্ড ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিল। যে কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারক মাটিতে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জুলাই ২০২৪ ছাত্র ও আপামর জনসাধারনের একটা যৌক্তিক এবং অবশ্যম্ভাবি আন্দোলন, তাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে ওই মুহুর্তে যে সকল গার্মেন্টস তাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে ব্যার্থ হয়েছিল তার বেশির ভাগই আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নাই এবং হাজার হাজার শ্রমিক এখনো কর্মহীন, বেকার হয়ে আছে। ঐ মিটিং এ জনাব হাতেম পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে কল-কারখানা খুলে দিতে এবং ইন্টারনেট চালু করে দিতে। যে তান্ডবের কথা বলা হচ্ছে তা কি ছাত্ররা করেছিল? নাকি ছাত্রদের দমন করার জন্য অন্য কোন স্বার্থান্বেসী বা সুযোগ সন্ধানি গোষ্ঠী তান্ডব করে সেটা ছাত্রদের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটা একটা প্রশ্ন রয়েই গেছে। ওই সময় সরাসরি বলার সুযোগ ছিল কি? নিজের সেইফ অবস্থান থেকে যতটুকু কথা বলা যায় তিনি ততটুকুই বলেছিলেন।

১০০ ব্যবসায়ী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিৃবতি

ফ্যাসিস্ট আমলের সরকারের পক্ষ নিয়ে বা ঐ সরকারের দলীয় লেজুরবৃতি করে যে সকল ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে সুযোগ সুবিধা নিয়ে অনৈতিক সুবিধা অর্জন করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছিলেন ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর সবাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু জনাব হাতেম একটি শক্ত নৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আবার নতুন সরকারের সাথে থেকেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সদা সচেষ্ট ছিলেন, ছিলেন সরব। তিনি ফ্যাসিস্টদের দোসর হলে তাঁর পক্ষে এ ধরনের শক্ত অবস্থান নেওয়া সম্ভব হতো কি? কেহ কি বলতে পারবেন জনাব হাতেম তৎকালিন সরকারের কাছ থেকে বা অতীতের কোন সরকারের কাছ থেকে কখনও গার্মেন্টস সেক্টরের স্বার্থ ব্যতীত ব্যক্তিগত কোন সুবিধা নিয়েছেন? আমাদের জানামতে বিভিন্ন সময়ে তাঁর নিকট অনেক লোভনীয় অফার থাকার পরও তিনি কখনই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হননি। যেখানে ২০১০ সালেই তাঁর বিকেএমইএ’র সভাপতি হওয়ার কথা, তখন তাকে কখনও জামাত বা কখনও বিএনপি আক্ষা দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর সভাপতি হতে দেওয়া হয়নি, আর এখন তাকে আখ্যায়িত করা হচ্ছে ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে।

১০০ ব্যবসায়ী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিৃবতি

আমরা কেন তাঁকে চাই? শ্রমিক এবং মালিকেদর মাঝে মোহাম্মদ হাতেম একটি সেতুর নাম। যিনি শ্রম আইন ও তাঁর প্রজ্ঞা এবং সহযোগিতার হাত দিয়ে মালিক-শ্রমিক দুটি প্রান্তকে এক বিন্দুতে যোগ করেছেন। যে কারণে নারায়ণগঞ্জে তুলনামূলকভাবে শ্রম অসন্তোষ নেই বললেই চলে। বিপদগ্রস্থ এমন কোন গার্মেন্টস মালিক বা শ্রমিক বলতে পারবে না যে, কোন সমস্যা বা বিপদে আমরা তাঁকে পাশে পাইনি। ভূরি ভূরি প্রমান রয়েছে, বহু গার্মেন্টস যখন বেতন ভাতা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে একটি অরাজক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তখন মহান আল্লাহর আশীর্বাদ হয়ে মোহাম্মদ হাতেম সামনে এসে দাঁড়িয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন। একজন সুবিধাভোগী ফ্যাসিস্ট থেকে কখনোই এমন আচরণ সম্ভব নয়। অনেক মালিক বেতন বোনাস দিতে না পেরে, ব্যাংকের প্রেসার নিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পালিয়েও গিয়েছেন। আর সেখান হাজির হয়ে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দায় নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে পরিশোধের ব্যবস্থা করেছেন।

১০০ ব্যবসায়ী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিৃবতি

পরিশেষে আমরা বলতে চাই আমাদের ব্যাবসায়ীদের প্রিয় নেতা মোহাম্মদ হাতেম এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ করা হোক। তিনিই একমাত্র একজন ব্যক্তিত্ব যিনি মালিক-শ্রমিক ও দেশের স্বার্থে সরকার, ব্যাংক, মালিক এবং শ্রমিকদের এক সুতোয় গেঁথে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যারা তার ততকালীন বক্তব্যের ঐ একটি শব্দের জন্য মর্মাহত আমরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়েই বলছি, ওনার প্রতিটি বাক্য দেশের অর্থনীতি, ব্যাবসায়ী ও শ্রমিকের স্বার্থেই উচ্চারিত হয়েছিল। কোনভাবেই ছাত্র-জনতার বিপক্ষে নয়। একজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য মাননীয় সাংসদসহ সকলকে আমরা বিনীত অনুরোধ করবো। ধন্যবাদ।

মোঃ সেলিম সারোয়ার”

১০০ ব্যবসায়ী কর্তৃক স্বাক্ষরিত যৌথ বিৃবতি