
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও নারায়ণগঞ্জে এখনো থামেনি দলটির দোসরদের তৎপরতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফতুল্লার আলীরটেক ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার রওশন আলী দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আর জেল থেকে বেরিয়েই তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত করতে এবং নাশকতার ছক কষতে নিজ বাড়িতে দলের পলাতক নেতাকর্মীদের নিয়ে বড় ধরনের গোপন বৈঠক করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সিদ্ধিরগঞ্জে ‘হাফেজ সোলাইমান হত্যা’ মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বের হন রওশন মেম্বার। জামিনে এসেই তিনি পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে রওশন মেম্বারের নিজ বাড়িতে এই বড় গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রওশন মেম্বারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলু মুহুরী। আরও ছিলেন ফজলু মুহুরীর ভাতিজা এবং একাধিক মামলার আসামি মামুন ওরফে নাডা মামুন। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ নেতা নোয়াখাইল্লা মামুনের দুই ছেলে— নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা সৌরভ ও সৈকত। তাদের সঙ্গে ফতুল্লা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সরকার পতনের পর তারা আত্মগোপনে থাকলেও রওশন মেম্বার জামিনে আসার পর এখন তারা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, মাসদাইরে রওশনের নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনেই একের পর এক বৈঠক করছে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। আর তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত রওশন মেম্বার ওরফে নওশাদ আলী মেম্বার এবং এনায়েতনগরের ফজলু মুহুরী।
স্থানীয়দের দাবি, জামিনে বেরিয়ে রওশন মেম্বার যেভাবে আ.লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন তা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। অবিলম্বে হত্যা মামলার আসামি রওশন মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা ফজলু মুহুরী, একাধিক মামলার আসামি নাডা মামুন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা সৌরভ ও সৈকতসহ এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে দ্রুত পুনরায় গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের রিমান্ডে নিলেই নাশকতার গোপন বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য এবং বিগত দিনের খুন ও জমি দখলের সব আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করে এলাকাবাসী।







