ষড়যন্ত্রের ভেতরেই জোর কদমে এগিয়ে চলছেন সাখাওয়াত হোসেন খান

দৃশ্যমান উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর এই প্রশাসক

1
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান
ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সিটি কর্পোরেশনের সেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে নিরলস কাজ করছেন প্রশাসক সাখাওয়াত।

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমান প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন আন্তরিক ভাবে সিটি করপোরেশন এলাকার কার্যকর উন্নয়নের চেষ্ঠা করছেন বিপরিতে তেমনি তাকে ঠেকাতে নানামুখী ষড়যন্ত্রের অভিযোগও সামনে আসছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবেই পুরো সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকছেন তিনি। এই সময়টাকেই তার জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারলেই রাজনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা রয়েছে যে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই তাকে আসন্ন নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি আস্থা রেখে এই দায়িত্ব দিয়েছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এই মনোনয়ন একটি শর্তের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে সফলতা দেখাতে হবে এবং নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হবে।

জানা গেছে, তারেক রহমান ইতোমধ্যে তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনা, নাগরিক সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রশাসন পরিচালনার নির্দেশনাও রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে সাখাওয়াত হোসেন খানের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা। এর মধ্যেই আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়নকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নানা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে, যা তার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

তবে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ সতেরো বছরের ত্যাগ, দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সবকিছু মিলিয়ে তিনি এখন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তারা মনে করেন, এসব ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।

নগরবাসীর একটি অংশও মনে করছে, প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকান্ডই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তিনি কতটা গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হয়ে উঠবেন। যদি তিনি এই সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন, সুশাসন ও নাগরিক সেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন, তাহলে নির্বাচনে তার অবস্থান আরও শক্ত হবে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সময়টা এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি সম্ভাবনাময়ও। প্রশাসনিক সফলতা, দলীয় আস্থা এবং জনসমর্থন এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই তিনি আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।