নানামুখী চ্যালেঞ্জে না.গঞ্জের পাঁচ এমপি

তাদের নামে সক্রিয় নানা ধান্ধাবাজ চক্র

0
নারায়ণগঞ্জের ৫ এমপির সামনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত ৫ সংসদ সদস্যের সামনে এখন জনসেবা ও শৃঙ্খলা ফেরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-এর পাঁচটি আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। নির্বাচনের উত্তাপ কাটতে না কাটতেই এখন তাদের সামনে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের জটিল চ্যালেঞ্জ যা মোকাবিলা করেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। এই পাঁচ এমপির মাঝে চারজন সরকারী দলের এবং একজন বিরোধী দলের।

এদিকে তারা দায়িত্ব নেবার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। নির্বাচনের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার ও ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এমপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নানা রকম ধান্দাবাজ চক্র। স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে গতিশীল করা নতুন এমপিদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে সড়ক, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

এছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নির্বাচনের আগে-পরে তৈরি হওয়া এই বিভাজন নিরসন না করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করাও এমপিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানার নিরাপত্তা এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। অন্যথায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের বিজয়ের আনন্দ খুব বেশি দিন স্থায়ী না হয়ে এখন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি নারায়ণগঞ্জ-এর পাঁচ এমপি। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।