খানপুর থেকে পোর্ট স্থানান্তরে এমপি ও প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ চায় নগরবাসী

4
খানপুর থেকে পোর্ট স্থানান্তরে এমপি-প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চায় নগরবাসী
খানপুর থেকে পোর্ট স্থানান্তরে এমপি-প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চায় নগরবাসী

উন্নয়ন কি মানুষের আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? নারায়ণগঞ্জের খানপুরে প্রস্তাবিত নতুন কন্টেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নিয়ে এখন এই প্রশ্নই সবার মুখে। একদিকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও পোর্টের বিশাল ব্যর্থতা, অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে নতুন আপদ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন তীব্র আতঙ্ক। জানা গেছে, বিতর্কিত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই মালামাল ও সরঞ্জাম আনার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নগরবাসী। প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত এই শহরকে একটি ‘মৃত নগরীতে’ পরিণত করার এই আত্মঘাতী চক্রান্ত রুখতে এখন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সরাসরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সর্বস্তরের নাগরিক।

২০১৩ সালে অনেক আশা নিয়ে চালু হয়েছিল পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল। লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের পণ্য সহজে ঢাকা আসবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত ১২ বছরে এই প্রজেক্ট লাভের মুখ দেখেনি। সরকারের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে এই বন্দর এখন কার্যত অলস পড়ে আছে। বছরে যে বন্দরে ২৫ কোটি টাকা লস হয়, সেই বন্দরের ২০ শতাংশ জায়গাও এখন ব্যবহৃত হয় না। প্রশ্ন উঠেছে, যে বন্দর অচল পড়ে আছে, তার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কেন আবার নতুন বন্দর দরকার? এটি কি জনসেবা নাকি স্রেফ অর্থ লুটপাটের নতুন কোনো ফাঁদ?

খানপুর এলাকাটি নারায়ণগঞ্জের হৃদপিণ্ড। এখানেই ৩০০ শয্যার হাসপাতাল এবং ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। এই ঘিঞ্জি এলাকায় ১৮৫ কোটি টাকার প্রজেক্ট চাপিয়ে দেওয়া মানে হলো ১০ লাখ মানুষের যাতায়াত ও স্বাস্থ্যকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়া। নগরবাসীর দাবি, সরঞ্জাম আসা শুরু হলেও এখনই এই সর্বনাশা প্রকল্প বন্ধের উপযুক্ত সময়। একবার কাজ শুরু হয়ে গেলে এবং কন্টেইনারবাহী দানবীয় লরি যখন শহরের সরু রাস্তা দিয়ে ঢোকা শুরু করবে, তখন চাষাড়া থেকে ২নং রেলগেট পর্যন্ত পুরো শহর চিরস্থায়ী ‘ডেডলক’-এ পরিণত হবে। সাধারণ মানুষকে পোহাতে হবে সারাজীবনের ভোগান্তি।

নারায়ণগঞ্জবাসী উন্নয়ন চায়, কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি শহরকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলে, তবে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম এবং সিটি প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রতি নগরবাসীর জোরালো দাবি—আপনারা এই ‘মরণফাঁদ’ বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিন। বন্দর যদি করতেই হয়, তবে তা শহরের বাইরে কাঁচপুর বা মুক্তারপুর এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হোক। সেখানে প্রশস্ত নদীপথ ও মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ রয়েছে, যা সারা দেশের পণ্য পরিবহনের জন্য আদর্শ।

ইতোমধ্যেই নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন যদি এখনই এই প্রকল্পের সরঞ্জাম ফেরত পাঠিয়ে এর স্থান পরিবর্তন না করে, তবে নারায়ণগঞ্জবাসী নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। কয়লা ও সিমেন্টের বিষাক্ত ধূলিকণায় নিজেদের ফুসফুস নষ্ট হতে দেওয়ার চেয়ে এই ‘লুটপাটের মেগা প্রকল্প’ রুখে দাঁড়ানোই এখন সময়ের দাবি।

প্রশাসন কি ৩৫০ কোটি টাকা লস করা পানগাঁওয়ের সেই একই ভুল নারায়ণগঞ্জে করবে? নাকি জনস্বার্থে এই ‘মরণফাঁদ’ সরিয়ে নিয়ে প্রিয় শহরটিকে বাঁচাবে? এমপি আবুল কালাম ও প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানের বলিষ্ঠ হস্তক্ষেপই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর শেষ ভরসা।