নারায়ণগঞ্জবাসীর বোঝা হতে পারে খানপুর পোর্ট: বিকেএমইএ সহ-সভাপতি

0
নারায়ণগঞ্জবাসীর বোঝা হতে পারে খানপুর পোর্ট!
নারায়ণগঞ্জবাসীর বোঝা হতে পারে খানপুর পোর্ট!

নারায়ণগঞ্জের খানপুরে প্রস্তাবিত কন্টেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণের আগে সঠিক যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে তা নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিকেএমইএ-এর সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল। তিনি মনে করেন, যাতায়াত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করে এই পোর্ট চালু করলে তা ‘ভালোর বদলে খারাপ’ ফল বয়ে আনবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের বিষয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “পোর্ট হলে ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধা হবে। তবে আমরা মনে করি, যদি যাতায়াতের সম্পূর্ণ সুব্যবস্থা না করে এই পোর্ট হয়, তবে এমনিতেই যানজটের নগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে আমাদের তথা নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের এই নেতা প্রকল্পের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা ব্যবসায়ীরা চাই পোর্ট হোক, কিন্তু কন্টেইনারসহ বিভিন্ন গাড়ি কীভাবে এই পোর্টে ঢুকবে আর বের হবে—তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। যদি যাতায়াতের সঠিক ব্যবস্থা না করা হয়, তবে এই পোর্ট নগরবাসীর ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। শহরের বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান না করে এই পোর্ট নির্মাণ করা ঠিক হবে না।”

পানগাঁও পোর্টের উদাহরণ খানপুর টার্মিনালে বড় অংকের অর্থ ব্যয়ের আগে বিদ্যমান অবকাঠামোর উপযোগিতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আগেও বলেছি, পানগাঁও পোর্টের কার্যকারিতা কতটুকু এসেছে, সেটি আগে দেখা দরকার। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এখানে নতুন পোর্টে হাত দেওয়া উচিত ছিল। সরকার মেগা প্রকল্প হাতে নেয় জনগণের টাকায়, আর আমরা ব্যবসায়ীরা মনে করি সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার হওয়া প্রয়োজন। পানগাঁও পোর্ট কেন অচল হয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখে আগে সেটিকেই সক্রিয় করা উচিত বলে আমরা মনে করি।”

আলোচনার অভাব ও সজাগ থাকার আহ্বান ব্যবসায়ীদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়ে মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “আমাদের ব্যবসায়ীদের সাথে সরকার এই পোর্টগুলোর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি।”

এদিকে, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চাষাড়া বা শহরের মূল সড়কগুলো দিয়ে যদি শত শত কন্টেইনার লরি চলাচল শুরু করে, তবে নারায়ণগঞ্জের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তাই এই মেগা
প্রকল্পে হাত দেওয়ার আগে শহরের যানজট নিরসন এবং পোর্টের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।