
মন্তব্য কলাম, আশেকুর রহমান:
নারায়ণগঞ্জ শহরটা কি তবে গডফাদার সাজতে চাওয়া কোনো গান্ধি পোকার ইশারায় চলবে? ৫ লাখ মানুষ একটু শান্তিতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে, সেটা কার সহ্য হচ্ছে না? গত কয়েকদিন ধরে হকারদের উসকানিতে রাজপথ গরম করা হচ্ছে, আর গতকাল তো সীমা ছাড়িয়ে গেল। সিটি কর্পোরেশনের ৫ জন কর্মীকে যেভাবে রাস্তায় ফেলে পেটানো হলো, তা দেখে পুরো শহর স্তম্ভিত।
প্রশ্ন হলো, এই হকারদের এতো সাহস দেয় কে? যে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’ কর্মীদের মারার হুকুম দিল, সেই শাহজাহানের খুঁটির জোর কোথায়? কার ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে সে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পায়?
সবাই জানে, ৫ আগস্টের পর এই শহরে হকারদের বসিয়ে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি কারা করেছে। হকারদের থেকে চাঁদা তোলা আর ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পকেট ভারী করা—এই ব্যবসা যাদের বন্ধ হয়ে গেছে, তারাই এখন নেপথ্যে বসে কলকাঠি নাড়ছে। জনগণের হাঁটার অধিকারের চেয়ে যাদের কাছে চাঁদাবাজির টাকা বড়, তারাই আজ হকারদের লেলিয়ে দিচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সকল বড় বড় নেতা যখন একমত যে ফুটপাত পরিষ্কার থাকবে, তখন একজন ‘গান্ধি পোকা’ কেন উল্টো চাল চালছেন? রাজনৈতিক পদবী থাকলেই কি শহরের মানুষকে জিম্মি করার লাইসেন্স পাওয়া যায়? প্রশাসনের সভায় যাকে নিয়ে ‘গান্ধি পোকা’র গল্প হয়েছিল, সেই পোকা কি তবে এখন বিষ ছড়াচ্ছে?
মুখে বড় বড় কথা বললেও আড়ালে যারা এই হামলাকারীদের আশকারা দিচ্ছে, সেই নাটের গুরুদের চেহারা এখন জনগণের সামনে পরিষ্কার। হকাররা তো শুধু গুটি, আসল খেলোয়াড়রা বসে আছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে।
মনে রাখবেন, ৫ লাখ মানুষের ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেলে তা হতে পারে খুবই ভয়ানক। নিজের পকেট ভরতে গিয়ে শহরকে রণক্ষেত্র বানানোর এই খেলা বন্ধ করুন। মুখোশের আড়ালে যতোই লুকানোর চেষ্টা করেন না কেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঠিকই চিনে নিয়েছে—কার ইন্ধনে আজ রক্তাক্ত হলো রাজপথ।
সময় এসেছে এই ‘নাটের গুরু’র মুখোশ টেনে খোলার। শহরবাসী আর কোনো পকেটমার বা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হবে না।
নিজের বিষ ছড়ানোর কার্যক্রম থেকে বিরত না থাকলে অচিরেই নগরবাসীর সামনে আপনার মুখোশ উন্মোচন করা হবে। তাই গুটি কয়েক হকারের জন্য নিজের রাজণৈতিক উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে নষ্ট করবেন না এমনটাই প্রত্যাশা করে আজ এখানেই শেষ করলাম।







