জনগণকে জিম্মি করে খানপুর পোর্ট টার্মিনাল!

প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জবাসী

294
খানপুর-কন্টেইনার-টার্মিনাল-প্রকল্প-নারায়ণগঞ্জ-মৃত-শহর-নির্মাণ-সামগ্রী
শহরকে 'ডেড সিটি' বানানোর তোড়জোড়? খানপুরে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে বালু ও পাথরের স্তূপ, বাড়ছে জনরোষ

নারায়ণগঞ্জ শহরকে ‘মৃত নগরী’ বানানোর নীল নকশা কি তবে বাস্তবায়নের পথে? ১৮৫ কোটি টাকার বিতর্কিত খানপুর কন্টেইনার ও বাল্ক টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে যখন পুরো নগরজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ চলছে, ঠিক তখনই জনমতকে তোয়াক্কা না করে প্রকল্পের কাজ শুরুর তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সেখানে বালু ও পাথর স্তূপ করা শুরু হয়েছে। আর এতেই ফেটে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে সাধারণ নগরবাসী।

প্রকল্প স্থানে নির্মাণ সামগ্রী আসতে দেখে স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এই আত্মঘাতী প্রকল্পের ভয়াবহতা নিয়ে সবাই যখন আতঙ্কিত, তখন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি), স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক। বিক্ষুব্ধ জনগণের প্রশ্ন—“শহর ধ্বংসের এই পায়তারা কি তারা দেখতে পাচ্ছেন না? নাকি তারা জেনেশুনেই ১০ লাখ নগরবাসীকে মরণফাঁদে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন?”

সচেতন নগরবাসীর দাবি, এই প্রকল্প কেবল শহরকেই ধ্বংস করবে না, বরং এটি সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে, মুন্সিগঞ্জের পানগাঁও পোর্টের মতো এই টার্মিনালটিও শেষ পর্যন্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকবে। কারণ, এই টার্মিনাল সচল করতে হলে প্রতিদিন যে হাজার হাজার ভারী লরি চলাচল করবে, তার ভার সইবার ক্ষমতা এই শহরের নেই। লরির দাপটে চাষাড়া ও লিংক রোড যখন পুরোপুরি অচল হয়ে যাবে, তখন এই টার্মিনাল ব্যবহারের উপযোগিতা হারাবে। ফলে জনগণের ট্যাক্সের ১৮৫ কোটি টাকা স্রেফ বালুর নিচে চাপা পড়বে।

কেন এই প্রকল্পকে ‘ডেড নগরী’র পরিকল্পনা বলা হচ্ছে? বালু ও পাথর আসা শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় ধুলিকণার দূষণ এবং যানজটের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। কোনো বাইপাস সড়ক বা ফ্লাইওভার ছাড়াই শহরের হৃদপিণ্ডে এমন পোর্ট চালুর চেষ্টা কেবল কারিগরিভাবেই ভুল নয়, বরং এটি একটি ‘ডেড সিটি’ তৈরির নিশ্চিত রেসিপি। বিদায়ী প্রশাসন যে শঙ্কার কথা বলে গিয়েছিল, বর্তমান প্রশাসন তা আমলে না নিয়ে বরং কাজ শুরুর সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খানপুর এলাকার একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু শহরকে জিম্মি করে নয়। এই পোর্ট চালু হলে নারায়ণগঞ্জ শহর কোনো মানুষ বসবাসের উপযোগী থাকবে না। অথচ আমাদের অভিভাবকরা (ডিসি, এমপি) নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।”*

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, অবিলম্বে এই অপরিকল্পিত বালু-পাথর ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায়, প্রাচ্যের ড্যান্ডিকে বাঁচাতে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।