নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে কে কোন প্রতীক পেলেন

153

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত ৪৭ জন প্রার্থীর হাতে প্রতীকের স্লিপ তুলে দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির। এর মাধ্যমে জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ভোটের প্রচার-প্রচারণা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আপিল শেষে জেলায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০। তবে শেষ দিনে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে অবশিষ্ট রয়েছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ): এ আসনে লড়াই করছেন ৭ জন প্রার্থী। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ভূঁইয়া (বিএনপি) পেয়েছেন ধানের শীষ, মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী) দাঁড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল হোসেন পেয়েছেন জাহাজ, ওয়াসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ) ট্রাক, মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (সিপিবি) কাস্তে, মো. ইমদাদুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা এবং মো. রেহান আফজাল (ইনসানিয়াত বিপ্লব) পেয়েছেন কলম প্রতীক।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার): এই আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ৫ জন। নজরুল ইসলাম আজাদ (বিএনপি) পেয়েছেন ধানের শীষ, অধ্যাপক ইলিয়াছ মোল্লা (জামায়াতে ইসলামী) দাঁড়িপাল্লা, হাফিজুল ইসলাম (সিপিবি) কাস্তে, আতাউর রহমান আঙ্গুর (স্বতন্ত্র) কলস এবং মাওলানা হাবিবুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন) পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও): এই আসনের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আজহারুল ইসলাম মান্নান (বিএনপি) পেয়েছেন ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ঘোড়া, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (জামায়াতে ইসলামী) দাঁড়িপাল্লা, অঞ্জন দাস (গণসংহতি আন্দোলন) মাথাল, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ফুটবল, গোলাম মসীহ (ইসলামী আন্দোলন) হাতপাখা এবং মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী (গণঅধিকার পরিষদ) পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ): এ আসনেই প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে মনির হোসাইন কাসেমী (বিএনপি জোট/জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) পেয়েছেন খেজুর গাছ, সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল, এডভোকেট আব্দুল্লাহ আলামিন (জামায়াত জোট) শাপলা কলি, সেলিম মাহমুদ (বাসদ) মই, মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (স্বতন্ত্র) ফুটবল, মোহাম্মদ শাহ আলম (স্বতন্ত্র) হরিণ, মো. আরিফ ভূঁইয়া (গণঅধিকার পরিষদ) ট্রাক, ইকবাল হোসেন (সিপিবি) কাস্তে এবং মুফতি ইসমাইল কাউসার (ইসলামী আন্দোলন) পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর): এই আসনে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন যারা— অ্যাডভোকেট আবুল কালাম (বিএনপি) ধানের শীষ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন ফুটবল, এবিএম সিরাজুল মামুন (খেলাফত মজলিস) দেয়াল ঘড়ি, মুফতি মাসুম বিল্লাহ (জামায়াত জোট) হাতপাখা, তরিকুল ইসলাম সুজন (গণসংহতি আন্দোলন) মাথাল, মন্টু চন্দ্র ঘোষ (সিপিবি) কাস্তে, আবু নাঈম খান বিপ্লব (বাসদ) মই এবং নাহিদ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ) পেয়েছেন ট্রাক প্রতীক।

নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। তবে সবাইকে কঠোরভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। মাঠে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘন বরদাশত করা হবে না।’

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ে ১০ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। পরে তারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। সবশেষে রূপগঞ্জের আ. কাইয়ুম শিকদার, আড়াইহাজারের মো. আবুল কালাম ও ফতুল্লার ইলিয়াস আহম্মেদ মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭-এ।

প্রতীক বরাদ্দের খবর পৌঁছানোর পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরসহ উপজেলাগুলোর অলিগলিতে মিছিল ও প্রচার শুরু করেছেন সমর্থকেরা। মোড়ে মোড়ে চলছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। সব মিলিয়ে জেলায় এখন বইছে ভোটের আমেজ।