স্কুলে প্রতিবছর পুনর্ভর্তির নামে ১০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

হাইকোর্টে রিটের প্রস্তুতি

1

দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রতি বছর নতুন ক্লাসে ওঠার সময় ‘পুনর্ভর্তি’ বা সেশন ফি-র নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড’-এর নির্বাহী পরিচালক ও সাংবাদিক আলী আসগর ইমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই আইনি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন।

আলী আসগর ইমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, বর্তমানে শিক্ষা একটি সেবামূলক খাতের পরিবর্তে ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর পুনর্ভর্তির নামে প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিশাল অংকের অর্থের জোগান দিতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

আলী আসগর ইমন তার স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “শিক্ষা আজ পরিণত হয়েছে ব্যবসায়। কেন একজন শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর (একই স্কুলে) পুনরায় ভর্তি হতে হবে? পৃথিবীর কোথায় আছে এই নিয়ম? শুধুমাত্র সন্তানকে পড়াশোনা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। এভাবে চলতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, প্রতি বছর স্কুলে এই বাধ্যতামূলক পুনর্ভর্তি বন্ধ করা এবং এবারের পুনর্ভর্তি প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রবিবার হাইকোর্টে এই রিট আবেদন দায়ের করা হতে পারে।

আলী আসগর ইমনের এই ফেসবুক পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে বছরের শুরুতে বেসরকারি স্কুলগুলোর আকাশচুম্বী ফি নিয়ে অতিষ্ঠ সাধারণ অভিভাবকরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেক অভিভাবক মন্তব্য করেছেন যে, একই স্কুলে পড়ার পরেও প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা সেশন ফি বা পুনর্ভর্তি ফি দেওয়া তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

আলী আসগর ইমন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে এই জনস্বার্থমূলক লড়াইয়ে দেশের সকল অভিভাবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিটটি যদি গৃহীত হয় এবং আদালত যদি পুনর্ভর্তি ফি আদায়ের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেন, তবে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর জানুয়ারিতে বেসরকারি স্কুলগুলোতে সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি-র নামে নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আদালতের এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।