
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ জেলা লালমনিরহাটে এসে এক বিশাল জনসমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, “আমার নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম করলে সরাসরি আমাকে জানাবেন। অপরাধী যেই হোক, সে যত বড় মাপের নেতাই হোক না কেন, আমি তাকে আমার সাথে রাখবো না।”
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে পৌঁছালে হাজার হাজার মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নিজ ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বক্তৃতায় আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বড়বাড়ি ইউনিয়নের সাথে আমার নাম জড়িয়ে থাকায় বিগত দিনে এ অঞ্চল উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। অনেক ধৈর্য ধরার পর আজ সুদিন এসেছে, এখন আপনাদের জন্য কাজ করার সময়। বড়বাড়ি ইউনিয়নের মানুষের আচার-আচরণে যেন অন্য কেউ কষ্ট না পায়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”
এর আগে দুপুরে তিস্তা সেতু পার হয়ে তিস্তা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান মন্ত্রী। সেখানে গোকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। দুলু বলেন, “গত ১২ তারিখ আপনারা আমাকে বিজয়ী করেছেন। কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি—সেই বৈষম্য আমি করবো না। সবাইকে নিয়ে আমি লালমনিরহাটের উন্নয়ন করতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনাদের আশা পূরণ হয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী করেছেন। এখন আমাদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব। আমাদের মাঝে যেন ‘আমিত্ব’ বা অহংকার জন্ম না নেয়। অহংকার করলে কী পরিণতি হয়, তা বিগত সরকারের পতন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী হয়েও কত বিনয়ী, আমাদেরও তেমন হতে হবে। আগের বাংলাদেশ আর নেই, এটি এখন তারেক জিয়ার বাংলাদেশ। তাই কর্মীদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সাথে যোগাযোগ করেছি। তাঁরা দায়িত্ব বুঝে নিয়ে গুছিয়ে উঠলে দ্রুতই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।”
বিকেলে মন্ত্রী লালমনিরহাট সার্কিট হাউজে পৌঁছালে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী দুই দিন লালমনিরহাটে অবস্থান করবেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।







