
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-এর দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরজুড়ে শুরু হয়েছে প্রত্যাশা ও আলোচনা। একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ, অন্যদিকে নগরবাসীর চোখ এখন প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সেবার দৃশ্যমান পরিবর্তনের দিকে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নগর ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নতুন প্রশাসক। সেখানে তিনি নাগরিক সেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা, যানজট, ফুটপাত দখল ও নাগরিক নিরাপত্তা—এই পাঁচটি ইস্যুকে তাৎক্ষণিক করণীয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে নাসিক সূত্রে জানা গেছে।
নাসিকের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানায়, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে সমস্যা চিহ্নিত করে ‘কুইক অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে নাগরিক অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর কথাও রয়েছে। প্রশাসক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-কে কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরই তার মূল লক্ষ্য বলে ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীরা বলছেন, এই নিয়োগ শুধু রাজনৈতিক স্বীকৃতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের একটি কঠিন পরীক্ষা। তাদের মতে, মাঠ ও আদালতে যিনি লড়াই করেছেন, নগর ব্যবস্থাপনাতেও তিনি দৃঢ়তা দেখাতে পারবেন—এটাই প্রত্যাশা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জে প্রশাসনিক সংস্কারের পথে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমান সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে এই নিয়োগের প্রতীকী মূল্য ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
নগরবাসীর কণ্ঠেও এখন বাস্তব কাজের দাবি। তাদের প্রত্যাশা ঘোষণা নয়, দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন। প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াৎ হোসেন খানের সামনে তাই একদিকে আস্থার বড় পুঁজি, অন্যদিকে ফল দেখানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনিক ইতিহাসে এই অধ্যায় কতটা কার্যকর ও স্মরণীয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।







