ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ: ঈদের আগে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

0
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধ ট্রেন ও স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষাড়া রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ও অনিশ্চয়তা।

ঈদ যাত্রার আগ মুহুর্তে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আকস্মিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার বিকেল থেকে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়, যা ঘরমুখো ও সাধারণ যাত্রীদের অপ্রত্যাশিত দুর্ভোগে ফেলেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার পর এই রুটে আর কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। এর ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চাষাড়া রেলস্টেশনে এসে অনেক যাত্রীই ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে বিভ্রান্তিতে পড়েন। অধিকাংশ যাত্রীই জানতেন না যে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর প্ল্যাটফর্মে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের কাছ থেকে তারা এই অপ্রত্যাশিত খবরটি পান।

ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পরিবহনে যাত্রীদের চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই সুযোগে অসাধু পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি ভাড়া দাবি করছে। সাধারণত চাষাড়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যেখানে ৫০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়, সেখানে এখন দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

রাজশাহীগামী যাত্রী মিজান জানান, “পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য কমলাপুর থেকে ট্রেনের টিকিট কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু চাষাড়া স্টেশনে এসে জানতে পারি ট্রেন বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি করে কমলাপুর যেতে হচ্ছে, যা আমাদের ঈদ যাত্রার আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে।”

নার্গিস আক্তার নামে এক নারী যাত্রী প্রকাশ করে বলেন, “চাষাড়া থেকে ফতুল্লা ফেরার জন্য ট্রেনের উপর নির্ভর করি। ট্রেন বন্ধ হওয়ায় এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অন্য পরিবহনে ফিরতে হচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিনা নোটিশে ট্রেন বন্ধ করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম জানান, “বুধবার বিকেলে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি নারায়ণগঞ্জ স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর ঢাকা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধের নির্দেশ আসে। তবে কী কারণে এমন আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ঈদের আগমুহূর্তে, সে বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।”

এদিকে, হঠাৎ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।