
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ দুই মাসের অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে। হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং নাগরিক সেবা বন্ধের দায়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের সবুজ সংকেত পেলে বর্তমান প্যানেলের দুই সদস্য— আলমগীর ও পিংকি-এর মধ্য থেকেই কারও হাতে উঠতে পারে ইউনিয়নের দায়িত্ব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত প্রায় দুই মাস ধরে বক্তাবলী ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। এর মূলে রয়েছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যাসহ ১১টি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি আইনি মারপ্যাঁচে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন তাকে অপসারণ করলেও তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে প্রশাসককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রশিদের ব্যক্তিগত ক্ষমতার মোহের কারণে পুরো ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পরিষদের ৯ জন সদস্য একজোট হয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করায় তার পুনরায় নেতৃত্বে ফেরার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আলমগীর এবং পিংকি।
স্থানীয়রা জানান, “আমাদের কাছে ব্যক্তি নয়, নাগরিক সেবাই মুখ্য। বিতর্কিত ও মামলার আসামির কারণে ইউনিয়নবাসী তথা আমরা অনেক ভুগেছি। এখন পিংকি বা আলমগীর—যার হাতেই দায়িত্ব আসুক, আমরা তাকে স্বাগত জানাব। দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন হোক।”
জেলা প্রশাসন আগেই স্পষ্ট করেছে, কোনো স্বৈরাচারের দোসর বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে আর ক্ষমতায় রাখা হবে না। আইনি জটিলতা নিরসনে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পিংকি অথবা আলমগীরের মধ্য থেকে কারো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হতে পারে। আর এর মাধ্যমেই বক্তাবলী ইউনিয়নের দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান ঘটবে।







