শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের আদেশ ৫ মে

সরাসরি গুলি চালানোর অভিযোগে কঠোর রায় হতে পারে?

0
সাবেক এমপি শামীম ওসমান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাবেক এমপি শামীম ওসমান। ৫ মে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের আদেশ।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলার ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী ৫ মে। ওই দিন আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ দেবেন। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলাটি বর্তমানে সারা দেশের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে শামীম ওসমান ও তার ছেলের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালানোর ভয়াবহ অভিযোগ থাকায় জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে শামীম ওসমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এবং তার ছেলের উপস্থিতিতে ১২ জন সহযোগীকে নিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সেদিন কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই ছাত্র-জনতার মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এই চক্রটি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং পরবর্তী তদন্তেও এই ১২ জনের সক্রিয়ভাবে গুলি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে এবং শত শত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে।

এই বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং সাধারণ জনগণের দাবি, যারা ক্ষমতার দাপটে রাজপথে বুক পেতে দেওয়া ছাত্রদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া চলবে না। নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, শামীম ওসমান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘকাল নারায়ণগঞ্জে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। ছাত্র আন্দোলনের সময় তারা যে নৃশংসতা দেখিয়েছে, তার একমাত্র প্রতিকার হলো দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি। দোষীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো না হলে শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে বলেও মনে করেন অনেকে।
আগামী ৫ মে’র আদেশকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বিচারপ্রার্থীদের অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির অবসান ঘটবে এবং সরাসরি গুলি চালানো খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে এমনটাই এখন বহু মানুষের প্রত্যাশা। মূলত এই ১২ জনের বিচারকে কেন্দ্র করেই এখন আবর্তিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি।

এই মামলার বাকী আসামীরা হলেন, ইমতিনান ওসমান অয়ন (অয়ন ওসমান): শামীম ওসমানের ছেলে। আজমেরী ওসমান: শামীম ওসমানের ভাতিজা (নাসিম ওসমানের ছেলে)। তানভীর আহমেদ টিটু: শামীম ওসমানের শ্যালক ও বিসিবি পরিচালক। মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি: অয়ন ওসমানের শ্যালক। শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ: নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। শাহাদাত হোসেন সাজনু: নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সভাপতিসাংবাদিক রাজু আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্র।