
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে কোনোদিন একটি ডালি বা চকি নিয়ে না বসলেও বর্তমানে হকার আন্দোলনের স্বঘোষিত ‘কাণ্ডারি’ বনে গেছেন মো. শাহজাহান ওরফে ‘জুয়াড়ি শাহজাহান’। অন্য জেলা থেকে এসে নারায়ণগঞ্জে জুয়া ও চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়া এই ব্যক্তি এখন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসকের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে শহর উত্তপ্ত করার পায়তারা করছেন। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, হকার প্রীতির আড়ালে শাহজাহানের মূল লক্ষ্য হলো তার বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য’ পুনরায় চালু করা।
খোদ হকারদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শাহজাহানকে কোনোদিন হকারি করতে দেখা যায়নি। তার আসল ব্যবসা ছিল ১নং ও ২নং রেলগেইট এলাকায় ডিপিডিসির লাইন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে ফুটপাতের শত শত দোকানে সাপ্লাই দেওয়া। এই বিদ্যুৎ চুরির সিন্ডিকেট থেকে শাহজাহান প্রতি মাসে হকারদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। হকার উচ্ছেদ হওয়ার পর তার এই বিশাল অংকের ‘চুরি’র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত এই আর্থিক লোকসান সইতে না পেরেই তিনি এখন হকারদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নামিয়েছেন।
শাহজাহান নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। গত কয়েকদিনের সমাবেশে তিনি নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে লক্ষ্য করে যেসব উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তাকে চরম ধৃষ্টতা বলে মনে করছে সচেতন নগরবাসী। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একজন চিহ্নিত জুয়াড়ি ও চাঁদাবাজ কীভাবে প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের ‘তওবা’ পড়ার নসিহত দেওয়ার সাহস পায়?
বিশ্লেষকরা বলছে, শাহজাহানের মতো অপরাধীদের নেতৃত্বে রেখে শহরে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে হকাররা। তার এই উস্কানীমূলক কথাবার্তা মূলত নিজের পকেট ভারী করার কৌশল। শাহজাহান হকারদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার, যা শহরকে একটি বড় ধরণের সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার সুপরিকপ্ট ষড়যন্ত্র।
এদিকে, শাহজাহানের এই আস্ফালন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না নারায়ণগঞ্জবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সচেতন নাগরিকরা দাবি তুলেছেন, অবিলম্বে এই বিদ্যুৎ চোর ও উসকানিদাতা শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। নগরবাসী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৫ লাখ মানুষের হাঁটার অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো চিহ্নিত অপরাধীকে ফুটপাতে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করতে দেওয়া হবে না।
শহরবাসী এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। চিহ্নিত এই চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় না আনলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই বিশাল অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







