ফুটপাত দখল ঠেকাতে নাগরিক সমাজের ডাকের অপেক্ষায় ৫ লাখ নগরবাসী

অরাজকতার চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন

2
ফুটপাত দখল ঠেকাতে ডাকের অপেক্ষায় ৫ লাখ নগরবাসী
পুনর্বাসনের নামে সড়ক দখল করে হকারদের বিক্ষোভ মিছিল
নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার আন্দোলনে এবার চূড়ান্ত সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে তথাকথিত পুনর্বাসনের আড়ালে হকারদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, মিছিলের নামে কৃত্রিম যানজট তৈরি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ নগরবাসী। সচেতন নাগরিক সমাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আন্দোলনের নামে শহরে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ৫ লাখ নগরবাসী এখন কেবল নাগরিক সমাজের ডাকের অপেক্ষায়; ডাক দিলেই তারা রাজপথে নামতে প্রস্তুত।
অভিযোগ উঠেছে, হকাররা তাদের হারানো চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য ফিরে পেতে পুনর্বাসনের দোহাই দিয়ে শহরজুড়ে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরির পায়তারা করছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ইঙ্গিত করে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ও হুমকিধামকি দেওয়া হচ্ছে, তাকে চরম ধৃষ্টতা বলে মনে করছেন শহরবাসী। মিছিলের নামে প্রধান সড়কগুলোয় তীব্র যানজট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোকেও হকারদের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়া মানে কেবল হকার উচ্ছেদ নয়, বরং এটি ৫ লাখ মানুষের হাঁটার অধিকার ফিরে পাওয়া। সাধারণ মানুষ হুশিয়ারি দিয়ে বলছেন, বাড়াবাড়ি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তারা মনে করেন, হকারদের এই আন্দোলন মূলত ফুটপাত পুনরায় দখলের একটি নোংরা কৌশল।
চাষাঢ়া ও বি বি রোড এলাকার একাধিক সচেতন নাগরিক জানান, তারা আর কোনোভাবেই হকারদের কাছে জিম্মি হতে চান না। প্রশাসনের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, “প্রশাসন যদি কোনো কারণে ব্যর্থ হয় বা নমনীয়তা দেখায়, তবে নাগরিক সমাজ ডাক দেওয়া মাত্রই ৫ লাখ নগরবাসী মাঠে নামবে। আমাদের হাঁটার অধিকার রক্ষা করতে আমরা নিজেরা লড়াই করতে দ্বিধা করবো না।”
নারায়ণগঞ্জের রাজপথ এখন এক উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরি। একদিকে চিহ্নিত অপরাধীদের নেতৃত্বে হকারদের পেশিশক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা, অন্যদিকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষের অনড় অবস্থান। সচেতন মহলের দাবি, হকারদের আড়ালে থাকা নেপথ্য গডফাদারদের চিহ্নিত করে এখনই গ্রেপ্তার করা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
শহরবাসী এখন একাট্টা—কোনো অরাজকতা নয়, কোনো দখলদারিত্ব নয়; নারায়ণগঞ্জ হবে শুধু সাধারণ নাগরিকদের। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের কঠোরতা নাকি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ—কোনটি থামায় এই হকারদের আস্ফালন।