ফতুল্লায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি: পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি

51
ফতুল্লায় অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন উদ্যোগ | নারায়ণগঞ্জ সমাচার
ফতুল্লায় অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন উদ্যোগ | নারায়ণগঞ্জ সমাচার

ফতুল্লাজুড়ে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাস নির্মূলে এবার জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ফতুল্লা থানা পুলিশ। এ লক্ষ্যে ফতুল্লার প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এসব কমিটির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গঠিতব্য এসব কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের তথ্য পুলিশকে সরবরাহ করা, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে কমিটিগুলো।

জানা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয় আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ব্যাংকার, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকদের রাখা হচ্ছে যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ফতুল্লার বড় ও মাঝারি পর্যায়ের মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে। অভিযানে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও এবার পুলিশের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়লে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে অপরাধীদের জন্য এলাকায় সক্রিয় থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

থানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক ও অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়েই স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে চায় পুলিশ।